এই সময়ের ছড়া
সজল দাশ
আক্কাস আলীর যাত্রা সেবার রমনার বটমূলে
রওনা দিল সকালবেলা বাসে বাদুড় ঝুলে।
শাহবাগে নেমে আলী ধরল হাঁটা সোজা
উদ্দেশ্যে তার বটমূলে ঢোকার রাস্তা খোঁজা।
বৈশাখী গেট গিয়ে দেখে বিশাল লোকের সারি
ঢুকছে পুরুষ হাজার হাজার ঢুকছে আরো নারী।
ঘণ্টাখানেক লাইনে থেকে ঢুকল মাঠে শেষে
চিত্রকর এক তুলি নিয়ে সামনে দাঁড়ায় এসে।
বৈশাখেরই দৃশ্য কোনো আঁকবে আলীর গালে
আলী ভাবে—সম্ভবত রেওয়াজ নতুন সালে।
সামনে গিয়ে চোখ কপালে অবাক হলো আরো
নববর্ষে টাকার মায়া নেই কি তবে কারো?
মেশিন কাটা, পান্তা-ইলিশ পাঁচ শ টাকা দামে
খাচ্ছে লোকে, বুকটা আলীর চিনচিনিয়ে ঘামে।
বরিশালে ইলিশ কিনি পাঁচ শ টাকায় গোটা
ভাতের সাথে ইলিশের পিস দেখছি কী রে ওঠা।
মাছটা পিসের অটোমেটিক মেশিন দিয়ে কাটা
এসব দেখে আক্কাস আলীর শিউরে ওঠে গা-টা।
অবশেষে মন বসাল ছায়ানটের গানে
‘হে বৈশাখ’ সুরে সুরে পশল আলীর কানে।
