মো. ওসমান গনি শুভ
পরিবার প্রতিটি মানুষের প্রথম এবং প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র। পারিবারিক শিক্ষা একটি মানুষের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক শিক্ষার প্রতিফলন ঘটে আমরা যখন উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য শহরে যাই কিংবা বিদেশে যাই অথবা আমরা যখন এলিট শ্রেণি বা সভ্য শ্রেণির সঙ্গে মেলামেশা করি তখন।
নৈতিকতা মানুষের নিজস্ব দিক হলেও এই নৈতিকতা সৃষ্টি করে মূলত পরিবার। পরিবার ব্যক্তির নৈতিকতার আদর্শ এবং সামাজিক শিক্ষা প্রদান করে থাকে। নৈতিকতাবিহীন মানুষ বন্যপ্রাণীর চেয়ে খারাপ এবং উন্মাদ। নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ কখনো তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয় না।
বর্তমানে দিন দিন সমাজ থেকে নৈতিকতা উঠে যাচ্ছে বলে মনে করা হয়। নৈতিকতার অভাবে আজকাল আমাদের আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণের মতো নৈতিকতাগর্হিত অসামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছোটো শিশু থেকে আশি বছরের বৃদ্ধা কেউই ধর্ষকের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। আমাদের সমাজের নারীরা যানবাহনে ঠিক মতো যেতে পারে না কারণ সেখানেও তাদের শ্লীলতাহানি করা হয়, অনেক সময় বাসে ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে।
আমাদের দেশে পাচার হচ্ছে নারী এবং শিশুসহ অনেক মানুষ। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে নিয়ে গিয়ে এসব শিশু এবং মহিলাদের বিক্রি করে দেওয়া হয় বিভিন্ন পতিতালয়ে। অন্ধকার পতিতালয় হয় তাদের একমাত্র জায়গা, যা তারা কখনো কামনা করেনি। একজন বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ কখনো এসব কাজ করতে পারে না। নৈতিকতার সামান্য স্পর্শও তাদের মধ্যে নেই।
সুদ, ঘুষ, ব্যভিচার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, খুন, ধর্ষণ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে মানুষ তার নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ফেলে। অনেকেই আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে না। অন্ধকার জগত্ই হয় তার ঠিকানা। আর এই ঠিকানা থেকে এক দিন সে চিরতরে হারিয়ে যায়।
স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বত্রই বাড়ছে নেশার প্রকোপ। শিক্ষার্থীরা হাতে কলম, বই, খাতার বদলে তুলে নিচ্ছে নেশাদ্রব্য। তারা মদ, গাঁজা, আফিম, হিরোইন, ফেনসিডিল, ক্যাথোড্রিল, খাট, ইয়াবা, বিড়ি, সিগারেট, তামাক, ভাং, চুরুটসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করে অকালেই তাদের জীবন হারাচ্ছে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে। একমাত্র নৈতিকতা পারে এসব কাজ থেকে আমাদের দূরে রাখতে। তাই আসুন আমরা নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষে রূপান্তরিত হয়ে সমাজ এবং সুন্দর দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
