চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থা (আইএমএফ)। বসন্তকালীন সভা উপলক্ষ্যে প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারলে পরের (২০২০-২০২১) অর্থবছর সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে আশা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, টানা এক দশক ধরে ৬ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি লাভ করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছর (২০১৮-১৯) সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ১৩ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। চলতি অর্থবছর বাজেটের লক্ষ্য অনুযায়ী ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মহামারি প্রতিরোধে সারা বিশ্বে লকডাউন এবং স্থবিরতার কারণে বৈশ্বিক মন্দা শুরু হয়েছে। কর্ম হারানোসহ অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে উন্নত প্রায় সব দেশে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।
আইএমএফ বলেছে, গত ৬০ বছরে এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি কখনও ঋণাত্মক হতে দেখা যায়নি। তবে ২০২০ সালে এর গতি থমকে যাবে। ২০০৮-২০০৯ সালের দিকে অর্থনৈতিক সংকটেও এশিয়ায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইএমএফ-এর হিসাবে এবার এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক না হলেও ‘শূন্য’ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি হলে আগামী বছর এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিশ্বব্যাংক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদেন বলেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে নেমে আসবে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপালের প্রবৃদ্ধি ধনাত্বক হওয়ার পূর্বাভাস দিলেও বিশ্বব্যাংক বলছে, পকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে যাবে। তবে এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, ৬ শতাংশের ওপরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এ বছরও আমরা অর্জন করতে সক্ষম হবো। কেননা বাংলাদেশে করোনার প্রভাব পড়ার আগেই আমাদের অর্থবছরের ৮ মাস অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। বাকি আছে মার্চ-জুন চার মাস। এ সময়ে যদি আমাদের শূন্য কিংবা নেগেটিভ গ্রোথও হয় তার পরও আগের ৮ মাসে আমরা যা অর্জন করেছি সেটা ৬ শতাংশের বেশিই হবে।
