নির্বাচনে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য সজাগ থাকার নির্দেশ শেখ হাসিনার

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৪৫

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট কেন্দ্র ও তার আশপাশ এলাকায় জ্বালাও-পোড়াও, বিশৃঙ্খলা ও ভোট বানচালের চেষ্টা যাতে কেউ করতে না পারে সেজন্য সবার সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নির্বাচন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে যা যা করণীয় সব কিছু করার নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, বৈঠকে নির্বাচনে দলের অবস্থা সম্পর্কে শেখ হাসিনা নেতাদের কাছে জানতে চান। এ সময় নেতারা বলেন, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এবার বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বিজয় আমাদের হবেই। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সবার সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য সবার চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা রাজধানী থেকে সারাদেশে নির্বাচন ও ভোটের মাঠ মনিটরিং করতে বিশেষ টিমকে দায়িত্ব দেন। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ শনিবার থেকে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কাজ শুরু করবে বিশেষ টিম। তারা সারাদেশের সব খবরাখবর সংগ্রহ করবে।  

ধানমন্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রবেশ পথের এক পাশে বসানো হয়েছে কাউন্টডাউন প্রজেক্টর, অন্য পাশে বিশাল আকৃতির একটি মনিটর। এই মনিটরে সারা দেশের নির্বাচনী খবরাখবর দেখতে পাবেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে তথ্য কেন্দ্র। এখান থেকে যেমন নেতাকর্মীরা নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন, তেমনই গণমাধ্যম কর্মীরাও নিতে পারবেন প্রয়াজনীয় তথ্য এবং সর্বশেষ আপডেট। আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিজ দলের ও মহাজোটের মনোনীত সব প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রম মনিটরিং ও সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আট বিভাগের জন্য আটটি টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বর স্থাপন করা হয়েছে। এ সব নম্বরে সারা দেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভাসহ সব শাখার নেতাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগের সুবিধা থাকছে।

এ দিকে শুক্রবার  সারা দেশে দলীয় প্রার্থী ও এজেন্টদের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছানো শেষ হয়েছে। তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ সহায়িকা। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে একটি টিম, যারা দলের পক্ষে ইসির কাছে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরবেন এবং প্রতিকার চাইবেন। বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য খোলা হয়েছে আরেকটি পৃথক সেল। হোটেল সোনারগাঁয়ে স্থাপিত তথ্য কেন্দ্র থেকে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।