বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই আমরা বাংলা নববর্ষে পা রাখলাম। কেমন যাবে এই নতুন বছর ১৪২৭? এই ব্যাপারে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকদের অভিমত প্রকাশিত হলো আজ
আজ পৃথিবী জুড়ে অঝোর কান্নার ঝড়। বোশেখের মেঘও প্রাণঘাতী যন্ত্রণার কথা বলছে। প্রিয় মানুষ আজ নিরুদ্দেশ—ধানখেতের আকাশে ভোরের শুকতারা। জীবন তাই বলে তো কখনো থেমে থাকবে না। স্বপ্নশীল মানুষ করোনা ভাইরাসকে জয় করবেই—তাদের দুই চোখের কৌতূহল, অন্তরের নির্মল সততা ও সংবেদনশীলতায়। শুধু তাই নয়, প্রতিটি মানুষই আগামী দিনে এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে সতর্কভাবে। মানবিকবোধে অন্যকে আরো বেশি ভালোবাসায় উজ্জীবিত করবে নরম সুগন্ধি ফুলের মতো। আমাদের এই দুঃসময়কে কোনো এক সোনালি পাখি তার ঠোঁটে নিয়ে উড়ে যাবে ঝিরঝির হাওয়ায়। আমার দৃঢ়বিশ্বাস আমাদের আগামী দিনগুলো হবে অনেক বেশি পরিণত, ঋদ্ধ, অনাবৃত সূর্যের মতো।
ড. যাকিয়া সুমি সেতু, ঢাকা
করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ তাণ্ডবের মধ্যেই বিদায় ও অভিষেক হলো পুরোনো ও নতুন বাংলা বছরের। প্রতিটি মানুষের মনে চরম অস্থিরতা, আতঙ্ক এবং উদ্বেগের পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত বন্দিদশা থেকে মুক্তির বাসনা কাজ করছে। তাই আনুষ্ঠানিক বিদায় ও বরণ হয়নি বাংলা ১৪২৬ ও ১৪২৭ সালের। তবুও বাংলা নতুন বছরে প্রত্যাশা করি, অচিরেই বিদায় নিক প্রাণঘাতী করোনা। অপরাধ, দুর্নীতি, অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা, অসভ্যতা আর অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত হোক আমাদের সমাজ। প্রতিটি সত্তায় লালিত হোক প্রকৃত বাঙালিয়ানা। যার যার জায়গা থেকে দেশপ্রেমের দীপ্ত শপথে এগিয়ে যাক প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি ‘বাংলাদেশ’।
আবু ফারুক
সহকারী শিক্ষক, ভাগ্যকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর, বান্দরবান
করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেও ভালো যাবে নতুন বছর। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে দেশের যন্ত্রশিল্প ও বৈদেশিক শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সংশ্লিষ্ট কর্মজীবী মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। আমি কৃষিপ্রধান সবুজশ্যামল বাংলাদেশে বাস করি। ধান, পাট, গম, ভুট্টা, ডাল, আলু, শাক-সবজি উত্পাদনে উর্বর ভূমি ও অনূকুল পরিবেশ রয়েছে এ দেশে। গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি গৃহপালিত প্রাণী এবং সম্পদে ভরপুর এ দেশ। খাল-বিল, নদী-নালায় ইলিশ, চিংড়ি, শৈল, বোয়াল, পুঁটি, টেংরা প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে প্রচুর। আশা করি, বৈশ্বিক মহামারিতে বেকার হওয়া জনগোষ্ঠী কৃষিকাজে মনোযোগী হবে। অনুত্পাদিত ভূমি চাষের আওতায় আনবে, গৃহপালিত পশুপাখি লালনপালন বৃদ্ধি করবে, খাল-বিল, নদী-নালায় মাছ চাষ ও পরিচর্যা বাড়াবে। মাছে ভাতে বাঙালি সবাই মিলে কাজ করি, খেয়ে পরে বেঁচে থাকি, নতুন বাংলা বছরে ভালো থাকি, প্রত্যাশিত জীবন গড়ি।
আলহাজ জিয়াউল হক সরকার
করমতলা,পূবাইল,গাজীপুর মহানগর
বিশ্বব্যাপী মহামারীর মধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন বছর। বাংলা নববর্ষ। করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে নতুন বছর কেমন যাবে এ নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনাকল্পনা। তবে আমি আশা করি, বছরটি ভালোই যাবে ইনশাআল্লাহ। অতি দ্রুতই দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আগের মতোই সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। বিমান উড়বে, জাহাজ চলবে, গাড়ির চাকা ঘুরবে। চাকরিজীবীরা কর্মস্থলে ফিরবেন। হতদরিদ্র নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্তসহ সবার দিন ঘুচে যাবে। এটাই হলো আমার নববর্ষের প্রত্যাশা।
উবাইদুল্লাহ
ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ
করোনা আতঙ্কের মধ্যেই আমরা এ বছরের নববর্ষকে গ্রহণ করলাম। পহেলা বৈশাখ এবারও বাঙালিদের নাড়া দিয়েছে। তরমুজ খাওয়াসহ কিছু ঘরোয়া আয়োজনের মাধ্যমে বেশ ভালো লেগেছে। তবে বাংলার বেশির ভাগ মানুষ পহেলা বৈশাখকে মেলাকেন্দ্রিকভাবে গ্রহণ করেছে। আগামী বছরটি ভালোই যাবে কারণ বাংলাদেশের মানুষ তথা কৃষকসমাজ উত্পাদনের ক্ষেত্রে কোনো কমতি করেনি। সবাই হু এর নির্দেশনা মেনে চলি এবং ভালো থাকি।
দুলাল চন্দ্র মজুমদার
সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়, বরিশাল
নতুন বছর নতুন আশা, এলো নববর্ষ বাংলা ১৪২৭ সন। নববর্ষের অনেক উত্সাহ-উদ্দীপনা থেকে মানুষ নিজেদেরকে গুটিয়ে ফেলেছে। আমরা জানি, আগে জীবন এরপর সব। এই করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করা সবার আগে জরুরি। তাই করোনাকে আমরা অবশ্যই জয় করব এবং আগামী নববর্ষ উদযাপন করব নতুন আঙ্গিকে।
সুলতানা জামান
মানিকগঞ্জ, ঢাকা
আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উত্সব হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। বাংলা সংস্কৃতিতে নববর্ষ একটি অনন্য নাম। বাংলা নতুন বছরেই দেখা দিয়েছে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক। তাই তো আনুষ্ঠানিকভাবে উত্সব উদ্যাপন এবার হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা করোনার ক্লান্তিকাল খুব শিগিগরই কেটে যাবে। নতুন বর্ষ সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।
হোসেন আরা বাশার
হাজারীবাগ, ঢাকা
শুভ নববর্ষ ১৪২৭ সন। বিদায় নিয়েছে বাংলা ১৪২৬ সন। নববর্ষের নব চেতনায় সকলের সুস্থ, সুন্দর ও অনাবীল জীবন কামনা করি। নববর্ষে আমাদের জীবন কল্যাণের প্রাচুর্যে ভরে উঠুক। রঙে-রূপে সুরে-সংগীতে, সম্প্রীতিতে ও সাহসিকতায় বাংলা নববর্ষ হোক স্বার্থকময়। সর্বক্ষেত্রে মহান আল্লাহপাক আমাদের সহায়।
রিফাত
শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরা, ঢাকা
১৪২৭ বাংলা নববর্ষ এসেছে। করোনা মহামারিতে পর্দাপণ করেছে নতুন বছর। আমরা প্রত্যাশা করি, এই করোনা আতঙ্ক বেশি দিন থাকবে না। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় গঠনে বৈশাখের চেতনায় উজ্জীবিত হোক সবাই। নতুন ভবিষ্যত্ গড়ার প্রত্যয়ে সবাই হোক উদীপ্ত, সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।
অ্যাডভোকেট রবিউল হোসেন রবি
পল্টন, ঢাকা
আজ বিশ্ববাসীর মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের কালো থাবার হাত থেকে বাঁচার জন্য করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছে জাতি। এক দিন নিশ্চয়ই হবে জয়, মানবতার হবে জয়, করোনা ভাইরাসের হবে পরাজয়।
খন্দকার কামরুজ্জামান
উত্তর পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা
বাঙালির নববর্ষ পালনের উত্সবকে আজ বন্ধ করে দিয়েছে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক। বাঙালিদের প্রকৃত প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পাওয়া গেছে বলে দেখা যায়নি। তবে এবার ঘরে ঘরে নববর্ষ উদ্যাপন করেছেন অনেকে। করোনা একদিন শেষ হবে। নতুন দিনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবার হূদয়ে জেগে উঠবে আনন্দের কোলাহল। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।
পারভীন সুলতানা
রামচন্দ্রপুর, কুষ্টিয়া
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে নববর্ষের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি আমাদের হূদয়ে লালন করি। মৃিশল্প, কুটিরশিল্পসহ সারাদেশে নানান মেলার আয়োজন হয়। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যদিও পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন করা হয়নি; তবুও হূদয় নিংড়ানো ভালোবাসার বিন্দুমাত্র কমতি নেই আমাদের শুভ নববর্ষের জন্য।
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ
করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ
নববর্ষে সারা শহরে কাটে আনন্দে, শহর ছেড়ে গ্রামেও একই চিত্র দেখা যায় নববর্ষে। এবার মেলায় বাঁশি বাজেনি। মঙ্গল শোভা যাত্রা ছিল না, রমনা এবার সব কিছুকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বাঙালির হাজার বছরের এই প্রাণের মেলা এবার বন্দি হয়েছে ঘরের ভেতর। আমাদের বিশ্বাস, এই করোনা আতঙ্ক বেশি দিন থাকবে না। দ্রুত পরাজয় বরণ করে বিদায় নেবে করোনা।
করিম
ধানমন্ডি, ঢাকা
আবহমানকালের ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রবল প্রতাপে সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হলেও বাঙালি জাতি মুষড়ে পড়েনি। অতীতের সব বিপর্যয়ের মতো এ বিপর্যয় থেকেও বীর বাঙালি ঠিক সময়ে মাথা তুলে যে দাঁড়াবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা দেখেছি ইসরাইল, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বেশকিছু দেশ ডিজিটাল ডিভাইসের উপযুক্ত আশ্রয় নিয়ে সময়মতো করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে আমাদের সরকারপ্রধানের অকৃত্রিম আন্তরিকতা ও সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনা সত্ত্বেও আমাদের সার্বিক অবস্থা সম্পূর্ণ লেজেগোবরে। এমনকি অসহায় জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণসামগ্রী বিতরণেও সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্নীতির ও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে অষ্টপ্রহর।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী (মজির)
নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা
নতুন বছর শুরু হওয়ার আগেই করোনার কারণে মানুষ বাসায় বন্দি হয়ে আছে। কেউ কোনো টাকা আয় করতে পারছে না। কিছুদিন পর সাধারণ মানুষ টাকার অভাবে যে কী করবে তা আল্লাহই ভালো জানেন।
সাদিয়া সুলতানা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাভার, ঢাকা
বাংলা নববর্ষ এতো নীরব এবং নিঃশব্দে আর কোনো সময়েই উদ্যাপন হয়নি। করোনার কারণে শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র বিশ্ব আজ সংকুচিত। যার কারণে উত্সব এবং আনুষ্ঠানিকতা এখন ডিজিটাল পর্যায়ে চলে গেছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে প্রিন্ট মিডিয়া এখন সংকুচিত হয়ে গেছে। এটা ডিজিটাল আনন্দের কারণে। যাই হোক প্রকৃতিতে নববর্ষ এসেছে। আমরা নববর্ষ উদ্যাপন না করতে পারলেও প্রকৃতির এই সমারোহ দেখে আমরা আনন্দিত হচ্ছি। নববর্ষ আমাদের করোনা মোকাবিলার মানসিক শক্তিতে বলিয়ান করুক।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
বাঙালির নববর্ষ মানেই আনন্দ। অথচ এবারের নববর্ষ এসেছে নতুন বাস্তবতায়। করোনা পরিস্থিতি আমরা অবশ্যই মোকাবিলা করতে পারবো ইনশাল্লাহ। তবে এর জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।
আল মায়ামী
ফুলবাড়িয়া, সাভার
এবারের নববর্ষ বাঙালি জনগোষ্ঠীর কেটেছে বেশ হতাশায়। দিবসকে ঘিরে এবার কোনো উত্সবে মেতে উঠেনি জাতি। ছিল না বাণিজ্য উত্সব উদ্যাপনের কর্মসূচি। ছিল না মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন। ছিল না নাগরদোলা, ছিল না রমনা বটমূলে প্রাণের মেলা। গাইতে শোনা যায়নি- ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। সব আনন্দ যেন করোনা ভাইরাসের বাতাসে থেমে গেছে।
আজাদ মনজু
উত্তরা, ঢাকা
করোনা ভাইরাসের ছোবলে বিশ্বজুড়ে এখন চলছে মৃত্যুর মিছিল। করোনা নিয়ে আতঙ্ক আমাদের দেশে আজ। সতর্কতার জন্য সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ২৫ শে এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলা নতুন বছর পা রেখেছে ১৪২৭ সন। আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ছাড়াই কেটেছে এই প্রথম নববর্ষ। বাঙালি উত্সব প্রিয় জাতি। শুধু নববর্ষ নয় সব উত্সবে চলে প্রাণের মেলা। কিন্তু এবার নীরবে কেটেছে এই নববর্ষ। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমরা এই করোনাকে জয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো বুক ভরা আশা নিয়ে। নববর্ষে এই প্রত্যাশা আমাদের সবার।
খাইরুল ইসলাম (ফুল)
আরামপুর, ঝিনাইদহ
বাংলা নববর্ষে নতুন বছরের রাত-দিন ভালো যাবে, থাকবে না করোনা, আবিষ্কার হবে করোনার মৃত্যু ঘটাতে করোনার প্রতিষেধক টিকা—এমন প্রার্থনা করি আল্লাহর দরবারে। বিজ্ঞানীরা যেন দ্রুত করোনার প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার করতে পারে এ কামনা করি।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
দুঃখ, গ্লানি ও অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে তাই এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেওয়ার দিন—এই নববর্ষ। আমরা আশা করি, করোনার মেঘ কেটে যাবে, উঠবে উজ্জ্বল সূর্যের আলো, সে আলোতে আমরা আবার জাগরিত হবো।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ঢাকা
