করোনা পরিস্থিতিতে সকলের উচিত আলেম-ওলামাদের পাশে দাঁড়ানো

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ২১:৩৭

বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অর্থনৈতিক অবস্থা পূর্বের তুলনায় খারাপ। এই অবস্থায় ভালো নেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকগণ। অন্যান্য আলেম-ওলামাদের ক্ষেত্রেও কম-বেশি একই কথা প্রযোজ্য। এই ব্যাপারে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে লিখেছেন মো. আবু তালহা তারীফ।

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আলেম-ওলামাগণ দেশব্যাপী ৩২ হাজার প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রে ৪৪ লাখ ১০ হাজার শিশুশিক্ষার্থীকে অক্ষর জ্ঞানদানসহ নৈতিকতা শিক্ষা প্রদান করছেন। তারা ৭৬৮টি বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশে ৯৬ হাজার বয়স্ক (পুরুষ, মহিলা এবং জেলখানার কয়েদি) নিরক্ষরকে সাক্ষরতা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করছেন। একই সঙ্গে ৪১ হাজারটি সহজ কোরআন শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে ৫১ লাখ ১০ হাজার স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীদের স্বাক্ষর জ্ঞানদানসহ শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন শরীফ শিক্ষা ও বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষা প্রদান করছেন তারা। তারা এখন করোনা পরিস্থিতিতে প্রত্যেক এলাকায় সচেতনতা তৈরি করা, বিদেশফেরত ব্যক্তি, জ্বর-হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের মসজিদে বা জনসমাগমে আসতে বারন করা, বাসায় নামাজ পড়তে অনুরোধ করা, এমনকি করোনায় আক্রান্ত মৃত্যু ব্যক্তির কাফন, জানাজা, দাফনের মতো কঠিন কাজ পর্যন্ত করে যাচ্ছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটা এখন পর্যন্তও করে যাচ্ছেন এই আলেমগণ।

বিভিন্ন এলাকার সম্মানিত মসজিদের ইমামদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, মসজিদে ৫-৬ হাজার ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পেয়ে কোনোমতে দিন কাটছে তাদের। তারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে এ সামান্য আয়ে তাদের জীবন-সংসার পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। পরিবারকে নিয়ে যুদ্ধ করতে হয়। মসজিদ থেকে সম্মানি পাই, তা দিয়ে নিজ সংসার পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর। মা-বাবার ওষুধ, সন্তানদের লেখাপড়া, বাসা ভাড়া, বিদ্যুত্ বিল, নিজেদের সাংসারিক খরচ মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে উঠছে না। আমাদের সাহায্য চাওয়ার পরিস্থিতি নেই। আজ সংসারে টানাটানি। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবেন।  ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের মতো বিপদগ্রস্ত আলেমদের পাশে এসে দাঁড়াবেন বলে আমরা আশা করি। সম্প্রতি কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়ে তিনি আমাদের ধন্য ধরেছেন।

এ ব্যাপারে কথা হলো, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আসলে আমি তাদের ব্যাপারে জানি। আমাদের দেশের মুষ্টিমেয় কয়েকটি মসজিদ ব্যতীত অন্য শহরের পাশে বা  গ্রামাঞ্চলের মসজিদের ইমামদের বেতন খুবই কম। আমি বেতন বলব না। আমি বলব সম্মানি। উনাদের যে সম্মানি দেওয়া হয় তা দিয়ে একজন মানুষের পক্ষে সংসার চালানোটা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এটা নিশ্চিত, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত আছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে তারাই একমাত্র মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করছেন। পুরো চব্বিশ ঘণ্টাই যেন তাদের দায়িত্ব হয়ে পড়েছে।’ কিন্তু ‘আপনার শিক্ষকগণ বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি খুব আবেগময় হয়ে বলেন, ‘আমরা তাদের বেতন দিই না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আলেমদের কিছু সম্মানি দেন। কয়েক মাস তারা সেই সম্মানি পাচ্ছে না।  আসলেই এটা খুব কষ্টের। তারা আমার পরিবারের সদস্য। আমার পরিবারের সদস্যগণ কষ্টে আছে। আমি ভালো থাকতে পারি না। এ ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে বলেছি। কীভাবে সমস্যা সমাধান করা যায়, দ্রুত আলোচনা করার জন্য। আমিও তাদের ব্যাপারে জোর চেষ্টা এখনো অব্যাহত রেখেছি। ইনশাআল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় আলেমদের সঙ্গে আছেন। ‘করোনা ভাইরাসের এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের কোনো সহযোগিতা করবেন কি?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘আলেমগণের প্রতি রয়েছে আমার ভালোবাসা, মায়া। এজন্য আল্লাহ আমাকে আলেমদের খেদমত করার জন্য ব্যবস্থা করেছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে তাদেরকে আর্থিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি, ইনশাআল্লাহ। সকলেরই উচিত আলেম-ওলামাগণের পাশে দাঁড়ানো। তাদের সেবা করা। আমি ব্যক্তিগতভাবে ইত্তেফাকের মাধ্যমে সকল আলেমদের নিকট দোয়া চাই। আমি যেন বাংলাদেশের সকল আলেম-ওলামাগণের খেদমত করতে পারি। করোনা ভাইরাস থেকে আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন। আমিন।’