আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আমাদের মতো অবাধ্য বান্দাদের বিভিন্ন ধরনের বালা-মুসিবত দিয়ে এককভাবে পরীক্ষা করেছেন কিন্তু করোনার মতো এরকম মহামারি ভাইরাসের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা গোটা মানবজাতিকে একসঙ্গে সম্মিলিতভাবে পরীক্ষা করছেন। যার কারণে গোটা পৃথিবী আজ স্তম্ভিত এবং মানুষ সবাই আতঙ্কিত।
আমরা যেন গরুকে খুঁটির সঙ্গে না বেঁধে অচেনা পথে ছেড়ে দিয়ে, আল্লাহর ওপর ভরসা করার মতো নির্বুদ্ধিতার পরিচয় না দেই। কেননা আল্লাহর রাসূল (স) তিনিও কাফেরদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি বরং কাফেররা যখন তাকে হত্যা করার জন্য সিদ্ধান্ত নিল তখন তিনি হযরত আবু বকর (রা)কে সঙ্গে নিয়ে মদিনায় হিজরতের জন্য বাহির হওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে, আল্লাহর ওপর ভরসা করেছিলেন। আর এটা তিনি করেছেন সতর্কতা অবলম্বনের জন্য।
আর এ ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, কোনো বালা-মুসিবতে পতিত হলে সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যম হিসেবে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা আমাদের অবশ্যই নিতে হবে।
আর তাই পৃথিবীর এই ক্রান্তিলগ্নে করোনার মতো মহামারি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেদের এবং সমাজের মানুষকে বাঁচানোর জন্য সতর্কতার অবলম্বন হিসেবে বিশেষজ্ঞরা যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে তা অবশ্যই যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত কোনো ব্যক্তি যেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে সংক্রমণ ঘটাতে না পারে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা এ সম্পর্কে রাসূল (স) বলেছেন, ‘তোমরা যখন কোনো এলাকায় প্লেগের মতো মহামারি বিস্তারের কথা শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ কোরো না। আর যদি কোনো এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোমরা সেখানে থাকো, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।’ [সহিহ বুখারি :৫৭২৯]
সর্বোপরি আমাদের উচিত করোনার মতো এরকম মহামারি ভাইরাসের জন্য আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে ধৈর্য ধারণ করা। কারণ এটা আমাদের জন্য পরীক্ষা! যুগে যুগে মানবজাতিকে আল্লাহ তায়ালা এভাবে পরীক্ষা করেছেন।
আর এ সম্পর্কে আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার সূরা বাকারাহর ১৫৫ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবই : মাঝে মধ্যে তোমাদের বিপদের আতঙ্ক, ক্ষুধার কষ্ট দিয়ে, সম্পদ, জীবন, পণ্য-ফল-ফসল হারানোর মধ্য দিয়ে। আর যারা কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য-নিষ্ঠার সঙ্গে চেষ্টা করে, তাদের সুখবর দাও।’
আর আমরা যদি এরকম কোনো সমস্যায় নিপতিত হই তাহলে আমাদের করণীয় কী। আমাদের করণীয় হলো ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। কেননা পৃথিবীতে চলতে গেলে মানবজীবনে অনেক সংকট, সমস্যা বা বাধার মুখে পড়তে হয়। আর যারা ইমানদার তারা এসব বাধা বিপত্তির মোকাবিলায় দুটি কাজ করে। তারা বিপদ ও সংকটের সময় ধৈর্য ধারণ করে এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি ধৈর্যশীল নামাজিদের সহায়তা করবেন এবং সর্বাবস্থায় তিনি তাদের সঙ্গে থাকবেন। আর এ সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার সূরা বাকারাহর ১৫৩ নাম্বার আয়াতে বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ আর আল্লাহ অবাধ্য হয়ে কোনো কাজ করা থেকে বিরত থেকে, বেশি বেশি তাসবি-তাহলিল পাঠ করে এ দোয়া করতে হবে যে, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুজামি, ওয়া মিন সায়্যিইল আসকাম। অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে ধবল, কুষ্ঠ, উন্মাদনাসহ সব ধরনের কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আশ্রয় চাই। (সুনানে আবু দাউদ)
lলেখক :শিক্ষার্থী, দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
