এই তো বছরের শুরুতে ক্রিকেট দুনিয়ায় প্রথমবার দেশকে বিশ্বসেরার স্বীকৃতি এনে দিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার যুব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের যুুবারা। আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন দলটার মাধ্যমে স্বপ্নের ট্রফি জিতে বাংলাদেশ।
দুই বছর পর আবারও বসবে যুব বিশ্বকাপের আসর। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। যেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অংশ নিবে টাইগার জুনিয়ররা।
বয়সভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনূর্ধ্ব-১৯ দল গঠন করে থাকে বিসিবির গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগ। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের জন্য নতুন যুব দল গঠন প্রক্রিয়ার প্রায় শেষ পান্তে চলে এসেছিল বিসিবির গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগ। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে যে প্রক্রিয়ায় শেষ করা যায়নি। করোনার ধাক্কায় থমকে আছে বাংলাদেশের নতুন যুব দল গঠন। গত ১৯ মার্চ দেশে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম স্থগিত করেছিল বিসিবি।
গত কয়েক বছর ধরে ওয়াইসিএল (ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ) থেকেই প্রতিভাবানদের বাছাই করে থাকে বিসিবি। যে প্রতিযোগিতায় লংগার ভার্শন ও ওয়ানডে ভার্শনের ম্যাচ খেলে থাকে ক্রিকেটাররা। এবার লংগার ভার্শন শেষ করলেও ওয়ানডে শুরু হওয়ার আগেই করোনার আঘাত নেমে আসে।
নতুন যুব দল গঠন বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিবির গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার এই এম কাওসার বলেছেন, ‘ওয়াইসিএল (ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ) এর চার দিনের খেলাগুলো আমরা শেষ করেছি। ওয়ানডে ভার্শনটা করতে পারিনি। এপ্রিলের ১-১৫ তারিখ ছিল ওয়ানডে ভার্শন। এটা ছিল সিলেটে। এটা করতে পারলাম না করোনার কারণে।’
যুব দল নিয়ে গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগের পরিকল্পনা থাকে সব সময়। পরিকল্পিত সূচির বাস্তবায়ন এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত মাঠে নেমে পড়ার অপেক্ষায় আছে গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগ। বিসিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন তো বুঝতেছি না কবে করা যাবে। এখন পরিস্থিতির ওপর সব নির্ভর করছে। যখনই আমরা সুযোগ পাব, মাঠে ফেরার অনুমতি পাব আবার কার্যক্রম আমরা শুরু করব।’
ওয়ানডে ভার্শন শেষে প্রাথমিক দল গঠন করা হবে। ক্যাম্পে ডাক পাবেন অন্তত ৩০ ক্রিকেটার। আকবর আলীদের উত্তরসূরি যুবাদের জন্য বিদেশ সফরের সূচিও ঠিক করা আছে। এই এম কাওসার বলেন, ‘অক্টোবরে ট্যুরের সূচি আছে। আমাদের পাকিস্তানের সঙ্গে প্রোগ্রাম ছিল। ওদের ওখানে যাওয়ার প্ল্যান ছিল। ওদেরও আসার কথা আমাদের এখানে। যা বললাম সবই, এখন এগুলো কিছুই নিশ্চিত নয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সবকিছু ঠিক করা হবে। হয়তো নতুন প্রোগ্রামও করতে হবে।’
পরিস্থিতি ঠিক হলে করোনার ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে বিসিবি। গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার বলেন, ‘এখন যাদের সঙ্গেই খেলব সবাই আমাদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কাউন্ট করবে। হয়তো আমরা প্ল্যানমতো করতে পারিনি। সমস্যা হয়ে গেছে। এখানে কিছু করার নেই। ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হবে।’
