কাপাসিয়ায় একই কারখানার ১৭ শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৪

কাপাসিয়া উপজেলার দস্যু নারায়ণপুর গ্রামের ছোঁয়া এগ্রো ফিড প্রোডাক্ট লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ১৭ জন শ্রমিকের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জন এখানো কারখানার ভেতরে আইসোলেসনে রাখা হয়েছে। বাকি চার জন পার্শ্ববর্তী শ্রীপুরে নিজ নিজ বাড়িতে রয়েছে। কারখানার আক্রান্ত শ্রমিকদের পরিবার অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে, কিন্তু মালিকপক্ষ তাদের কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না।

কারখানার মালিক ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, কারখানাটিতে পশু খাদ্য তৈরি হয়। কারখানাটিতে কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ২৩৬ লোক কাজ করেন। এদের মধ্যে ১৩০ জন শ্রমিক কারখানার ভেতরে থেকে কাজ করেন। বাকি আরো ১০৬ জন কারখানার বাইরে শ্রীপুর ও কাপাসিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে গিয়ে কারখানায় কাজ করেন। কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে নারায়ণগঞ্জ থেকে খৈল ও আটা আনা হতো। ধারণা করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ থেকে আনা কাঁচামাল বা ট্রাকের চালক ও শ্রমিকদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস কারখানায় প্রবেশ করেছে। কারণ কাঁচামাল পরিবহনের ট্রাক কারখানার ভেতরে নিয়ে যেত এবং ট্রাকের চালক ও শ্রমিক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে মেশার সুযোগ পেত।

গত ১০ এপ্রিল এ কারখানার একজন শ্রমিক প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়। কাপাসিয়া উপজেলায় সেই প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী। করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ঐ কারখানাসহ দস্যুনারায়ণপুর পুরো গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করে। কারখানার ভেতরে সব শ্রমিককে করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বুধবার পর্যন্ত দুই দফায় শতাধিক শ্রমিকের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। বাকিদের পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে দুই দফায় ছয় জন করে মোট ১২ জন শ্রমিকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর উপজেলার লতিফপুর গ্রামের কিছু শ্রমিকের করোনা পরীক্ষা করা হলে সেখানেও ৪ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে প্রথম শ্রমিককে ঢাকায় চিকিত্সার জন্য নেওয়া হয়েছে। বাকিদের মধ্যে কারখানার ভেতরে রয়েছে ১২ জন এবং লতিফপুরের চার শ্রমিক নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে চিকিত্সা চলছে। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় স্থানান্তরের কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, কারখানার ভেতরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। শ্রমিকদের কারখানার ভেতরে এক রুমে তিন জন করে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। টয়লেট অপ্রতুল। কারখানা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, দায়িত্বে অবহেলা ছিল বলেই এত শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরো বেশি মানুষ সংক্রমিত হতো। আক্রান্ত শ্রমিকদের ও তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য কারখানার মালিকপক্ষকে বলা হয়েছে। যদি তারা তা না করে তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।