বন্দরে মাল রেখে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারসাজি

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪৪

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ স্টোর রেন্ট (ভাড়া) মওকুফের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। দেশের করোনা পরিস্থিতি এবং চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট কমানোর জন্য গত ২৭ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি থাকাকালীন কনটেইনার খালাসের ক্ষেত্রে স্টোর রেন্ট মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, স্টোর রেন্ট মওকুফের ঘোষণায় আমদানিকারকদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বরং তা বন্দরের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে। দেশের করোনা পরিস্থিতি দিনদিন খারাপের দিকে যাওয়ায় এবং সরকারি ছুটি বা লকডাউন আরো বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় ব্যবসায়ীরাও সে সুযোগ নিচ্ছে। বন্দরের অতিরিক্ত চার্জ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছে করেই অনেকে তাদের আমদানি পণ্য খালাস নিচ্ছে না। এমনকি কাস্টমসে বিল অব এন্ট্রি দাখিলসহ শুল্ক প্রদান করার পরও পণ্য ডেলিভারির জন্য বন্দরের কাছে কাগজপত্র দাখিল করছে না।

সূত্রে জানা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর বিরাট অংশ শুল্ক প্রদানের পরও বন্দর থেকে ডেলিভারি নেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পবিত্র রমজান এবং করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ঐ সব খাদ্যপণ্যের বাজারে সংকট থাকলে মূল্যও বৃদ্ধি পাবে। এ সুযোগ নেওয়ার জন্য তা অতিরিক্ত ভাড়া ছাড়াই বন্দরে স্টক করে রাখছে। এতে করে বাজারে বেশ কিছু খাদ্যপণ্যের মূল্য এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক পত্রে স্টোর রেন্ট মওকুফের ইতিপূর্বেকার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেইনার ডেলিভারি নেওয়ার ক্ষেত্রে রেন্ট মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অথচ বন্দর থেকে ঐ সব পণ্য শুল্ক প্রদানের পরও ফেলে রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম বলেন, বন্দর কর্তৃক স্টোর রেন্ট মওকুফ করা ঠিক হয়নি। তার সুযোগ নিয়ে শুল্ক দেওয়ার পরও বন্দরের মধ্যে পণ্য রেখে দিয়েছে। এর ফলে বন্দরে জট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত জানালে ফেলে রাখা পণ্য নিলাম করা যেতে পারে। তাছাড়া পণ্য খালাসের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া যেতে পারে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক শুল্কায়ন হওয়া পণ্যসামগ্রীর মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, তেল, ছোলা, চিনি, মটর ডাল, দুধ, খেজুর, মুগ ডালসহ প্রায় ১৪ ধরনের পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে ফেলে রাখা হয়েছে।