কাওরান বাজারের একটি আড়ত লকডাউন

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:৩২

কোনোরকম সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে রাজধানীর কাওরানবাজারের কাঁচাবাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটার জন্য ভিড় করছেন। এরই মধ্যে কাওরানবাজারের একটি আড়ত (লাউ পট্টি) গতকাল বৃহস্পতিবার লকডাউন করে দিয়েছে পুলিশ। আড়তের একজন ব্যবসায়ী ও কর্মচারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তেজগাঁও থানার ওসি শামীম অর রশীদ বলেন, করোনা পজিটিভ আসায় ঐ ব্যবসায়ীর আড়ত ও বাসা লকডাউন করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে দুই জনের নমুনা পরীক্ষা করানোর পর বৃহস্পতিবার জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে তাদের করোনা ভাইরাস পজিটিভের তথ্য জানানো হয়। এরপরই কাওরানবাজারে ওয়াসা ভবনের উত্তর-পূর্ব দেওয়াল সংলগ্ন লাউপট্টির একটি আড়ত লকডাউন করে পুলিশ। করোনায় আক্রান্ত ঐ ব্যবসায়ীর বাসা আড়তের পাশে তেঁজতুরী বাজার এলাকায়। তার বাসাও লকডাউন করে দিয়েছে পুলিশ। আক্রান্তদের এক জন হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। অপরজন বাসায় থেকে চিকিত্সা নিচ্ছেন।

সূত্র জানায়, গত ২৫ মার্চ থেকে সারাদেশে ছুটি ও মার্কেট বন্ধ ঘোষণার পরও কাওরানবাজারে সন্ধ্যা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন। কেনাকাটার সময় শ্রমিক, ক্রেতা, বিক্রেতা ও আড়তদাররা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন না। অনেক শ্রমিক মাস্ক ব্যবহার করেন না। আড়তের ভেতর টং ঘর জাতীয় চায়ের দোকানগুলোতে শ্রমিকরা গাদাগাদি করে চা পান করেন। গত ৭ এপ্রিল কাওরানবাজারের একটি ভবনের সিকিউরিটি গার্ড করোনায় আক্রান্ত হয়ে রংপুরে মারা যান। আরেক জন মিনতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।

গতকাল সকালেও কাওরান বাজারে দেখা গেছে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। শ্রমিক, ক্রেতা ও বিক্রেতারা কেউই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করেননি। অনেককে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি মানুষকে সচেতন করতে। কিন্তু কেউই তা মানছে না। বাজারটি অন্যত্র সরানোর উদ্যোগ ছিল। কিন্তু মামলাজনিত কারণে তা সম্ভব হয়নি। আমরা চিন্তাভাবনা করছি, কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়।