করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি:শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং প্রতিষ্ঠানের করণীয়

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ১৯:০৮

মোহাম্মদ কবীর হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক

ও সংযুক্ত কর্মকর্তা, এটুআই

 

করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে সরকার কর্তৃক সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২৬ মার্চ হতে সরকারি এবং বেসরকারি অফিসসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকতে বলা হয় এবং বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়। এমতাবস্থায়, ঘরে সময় ভালো কাটাবার উপায় নিয়ে শিক্ষাবিদ, পুষ্টিবিদ, মনোবিদ এবং স্বাস্থ্যবিদগণ চমত্কার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে শিক্ষায়তনের সাথে যুক্ত সন্তানদের নিয়ে। প্রতিদিনের একাডেমিক ব্যস্ততা, ছোটা-ছুটি, খেলাধুলা, গান শেখা, নাচ শেখা, হোমওয়ার্ক করা এক তুড়িতেই হারিয়ে গেল। ফলে একদিকে বাসায় অস্থির হয়ে উঠছে অন্যদিকে বাত্সরিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। বিষয়টি অনুভব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এটুআইয়ের কারিগরি সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের পাঠে ধরে রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংসদ টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছে বিষয়ভিত্তিক শ্রেণি কার্যক্রম। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতে শুরু করা এই কার্যক্রমে কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে, পড়ায় ব্যস্ত থাকছে, হোমওয়ার্ক করছে এবং ভালো সময় কাটাচ্ছে। মিডিয়ার রিপোর্টে দেখা যায় আমাদের সন্তানেরা এত অল্পতে খুশি নয়, তাদের আরো চাই কিংবা অভিভাবকগণও চাচ্ছেন এ ধরনের কার্যক্রমের পরিসর বৃদ্ধি পাক এবং অব্যাহত থাকুক।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা যদি বিশ্বের দিকে তাকাই শিক্ষার্থীদের পাঠে ধরে রাখার জন্য, ঘরে শিক্ষার্থীদের সময় ভালো কাটাবার জন্য এবং একাডেমিক কার্যক্রমের ক্ষতি পুষিয়ে নেবার জন্য প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছেন। আমাদের দেশে সরকারের এই উদ্যোগটুকু বাদ দিলে যেটুকু দেখা যায় অ্যাম্বাসেডর শিক্ষক কর্তৃক জেলাভিত্তিক অনলাইন স্কুল ও গ্রুপ খুলে (ফেসবুক ও অন্যান্য মিডিয়ায়) শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু খুবই অবাক হচ্ছি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর (প্রাথমিক হতে উচ্চমাধ্যমিক) নির্লিপ্ত নিরবতা দেখে। সরকার ছুটি ঘোষণা করছে সুতরাং তাদের চোখ-কান বন্ধ করে, নাকে তেল দিয়ে এখন ঘুমাবার সময়। কে বাসায় অলস সময় কাটাচ্ছে, কার শিক্ষা পুঞ্জিকা ব্যাহত হচ্ছে, কোন অভিভাবক সন্তান নিয়ে উদ্বিগ্ন সময় পার করছেন, কোন শিক্ষার্থী স্কুল মিস করছে তা দেখার, জানার এবং অনুভব করার প্রয়োজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একেবারেই নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু বাছাই করে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে, পাস-ফেলের তকমা লাগাবে, অগ্রসর ও অনগ্রসর শিক্ষার্থীর পার্থক্য তৈরি করবে এবং সার্টিফিকেট পাবার রাস্তা তৈরি করে দেবে। এমন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার দায়িত্ব শুধু মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের। অথচ এই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের ঘামের পয়সায় চলে প্রতিষ্ঠানগুলো।

তথ্য প্রযুক্তির এই সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুব সহজেই ঘরে বসে ফ্রি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কিংবা স্কুল ভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে। অপারেটরদের কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে এসএমএস কেনা যায়, যা অ্যাপের মাধ্যমে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেয়া যায়, তাদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা যায় এবং শিক্ষার্থীদের ফিডব্যক জানা যায়। শিক্ষার্থীদের বলবো, তোমরা স্ব-শিখনকে কাজে লাগাও। অনলাইনে সার্চ করে তোমার সমস্যার সমাধান কর। অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক তোমাকে সাহায্য করতে অনলাইনে যুক্ত রয়েছেন, তাঁকে প্রশ্ন কর। কিশোর বাতায়নে প্রবেশ করো (www.konnect.edu.bd) তোমাদের জন্য অনেক একটিভিটি রয়েছে এখানে। ঘরে থাক, ঘরে খেলা যায় এমন খেলাধূলা কর, শরীর চর্চা কর, বই পড়, সিনেমা দেখ সর্বোপরি ভালো সময় কাটাও। সম্মানিত অভিভাবক এই দু:সময়ে সন্তানকে সময় দিন, অনলাইনে তার সমস্যা সমাধান করতে সহায়তা করুন এবং তার উপযোগী অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে সন্তানকে যুক্ত করে দিন। শিক্ষকগণ ব্যক্তিগতভাবে কিংবা স্কুলকে সাথে নিয়ে শ্রেণিভিত্তিক গ্রুপে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারেন। নিশ্চয়ই মেঘ কেটে যাবে, আমাদের শিক্ষাঙ্গন মুখরিত হবে শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে।