এক শাহ আলমের জন্য কতজন বিপদে!

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ২১:০৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

এক প্রবাসী মো. শাহ আলম কতজনের বিপদ ঘটিয়েছেন। এই হিসেব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগকে। স্ত্রী, সন্তান এবং তার ভাইয়ের করোনা আক্রান্তের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে এরই মধ্যে।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অভিজিত্ রায় জানিয়েছেন, শাহ আলমের পরিবারের ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করেন তারা প্রথমে। গতকাল শুক্রবার তার শ্বশুর বাড়ির আরো ছয় জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শাহ আলম কতজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন তা নিরূপণ করছেন তারা। ৭ এপ্রিল মারা যান শাহ আলম। এরপর তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। প্রবাস থেকে দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইন মানেননি শাহ আলম। নিজের বাড়ি আর শ্বশুর বাড়িতে ঘুরে বেড়িয়েছেন অবাধে। গিয়েছেন অন্য উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়িতেও। পরিণতি ভালো হয়নি তার। শ্বাসকষ্ট নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে মারা যান ৩৫ বছর বয়সি এই প্রবাসী। মো. শাহ আলম ১৮ মার্চ দেশে আসেন। বিমানবন্দর থেকে তাকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হলে সেখানে দায়িত্বরতদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে চলে আসেন বাড়িতে। বাড়িতে এসেও ছিলেন না কোয়ারেন্টাইনে। তার মৃত্যুর পর প্রকাশ পায় এসব তথ্য।

তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দাবি করেছে শাহ আলম ১৮ মার্চ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন। ২০ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। নাসিরনগরের পূর্বভাগ ইউনিয়নের মুকবুলপুর গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে শাহ আলম। তার মৃত্যুর পর ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, শাহ আলম আসার পর থেকে শ্বশুর বাড়িতেই ছিল। মাঝেমধ্যে বাপের বাড়িতে আসা যাওয়া করেছে কি না জানি না। আমাদের কাছে তালিকা আসার পর আমরা অনুসন্ধান করে তাকে বাড়িতে পাইনি। আমার ইউনিয়নে ১৯ জন লোক প্রবাস থেকে আসে বাস্তবে। যদিও ২৩ জনের তালিকা দেওয়া হয় আমাদের কাছে। এরমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থাকে দুই জন, এক জনের নাম ঠিকানা ভুল ছিল। শাহ আলম ছাড়া প্রবাস থেকে আসা সবাই আমাদের পর্যবেক্ষণে ছিল। প্রত্যেকের বাড়িতে গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে কমিউনিকেশন ঠিক রাখতে পেরেছি। কিন্তু শাহ আলমকেই শুধু আমরা বাড়িতে পাইনি। তার বাবাকে জিগ্যেস করার পর বলেছে শ্বশুর বাড়িতে রয়েছে। এরপরও আমরা ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তার বাবাকে ইনফরমেশন দিয়েছি তার ছেলে যদি বাড়িতে আসে সে যেন ১৪ দিনের আগে বাড়ি থেকে বের না হয়। বাড়িতে আসার পরই যেন আমাদের খবর দেয়। আমাদের অনুসন্ধানের দুই/এক দিন আগেই সে নিজের বাড়ি ছেড়ে শ্বশুর বাড়িতে চলে যায়। সেখানেই সে মারা গেছে। শুনেছি ঐ এলাকার লোকজনও তাকে ব্যারিকেড দিয়েছিল। এরপর তার শ্বশুর বলেছিল আমার জামাই আমার বাড়িতে থাকব।

শ্বশুর বাড়িতে এই হেল্প পেয়ে সে আর বাপের বাড়িতে আসেনি। পার্শ্ববর্তী গোকর্ন ইউনিয়নের জেঠাগ্রামে তার শ্বশুর বাড়ি। নাসিরনগরে নিজের বাড়ি আর শ্বশুর বাড়ির বাইরে সে সরাইলের শাহজাদাপুরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিল বলেও তথ্য পাওয়া যায়। শাহ আলমের মৃত্যুর পর শ্বশুর ও তার নিজের বাড়ি লকডাউন করে দেয় প্রশাসন। ৪ এপ্রিল অসুস্থতা বোধ করলে শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর টাইফয়েড ধরা পরে শাহ আলমের। কিন্তু তখন করোনা ভাইরাসের কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায়নি। ৭ এপ্রিল রাতে শ্বাসকষ্ট বাড়লে স্বজনরা তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারে ৯ ভাই বোনের মধ্যে শাহ আলম ছিলেন সবার বড়ো। তিন বছর আগে জেঠাগ্রামের নোয়াহাটি এলাকার মন্নান মিয়ার মেয়ে শাহনাজ পারভিনকে (২০) বিয়ে করেন তিনি। তার রয়েছে রেখা নামের আড়াই বছর বয়সের এক কন্যা শিশু।