পিরোজপুরের বিল অঞ্চলের শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ২১:০৮

করোনা পরিস্থিতি

নাসিম আলী, পিরোজপুর অফিস

করোনা ভাইরাসের কারণে হাটবাজার বন্ধ থাকায় পিরোজপুরের উত্তরাঞ্চলের বিল এলাকার সবজি নিয়ে চাষিরা দুর্বিপাকে পড়েছে। খেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শাকসবজি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভর মৌসুমে উত্পাদিত ফসল আগের মতো বাজারজাতকরণ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় পাইকারি বাজার বসায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় নিজ এলাকা বা খেত থেকে কম দামেও সবজি বিক্রি করতে পারছে না চাষিরা। পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের দেউলবাড়ী-দোবরা, কলারদোয়ানীয়া, বরিশাল জেলার বিশারকান্দি ও ইলুহার ইউনিয়নে ব্যাপক এলাকায় বর্তমানে কান্দিবেড় ও ভিটায় বিভিন্ন সবজির চাষ হয়। বর্তমানে খেতে লাউ, করলা, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, ঝিঙ্গা, কচুরলতি ও কাঁচা মরিচের ফলন বাম্পার বলে এলাকার চাষিরা জানান। নাজিরপুরের বিল ডুমরিয়া গ্রামের ধনী চাষি মো. শাহাবুদ্দিন বাহাদুর বলেন, এ মৌসুমে সবজির ফলন অনেক বেশি হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজারে নিয়ে তা বিক্রি করা যাচ্ছে না। নাজিরপুরের বৈঠাকাটা বাজারের ইজারাদার মো. নান্না মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, সবজি চাষিদের ফলানো শত শত লাউ গাছেই পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে লাউ কেটে গরুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। মুগারঝোর গ্রামের চাষি আক্তার হোসেন বলেন, গত শনিবার এ বাজারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পাশের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের জামভিটা ও ইলুহারের তালুকদারের হুলায় নৌকায় করে শাকসবজি বিক্রি হয়। একইভাবে চৌমুহনী বাজারের শাকসবজির হাট ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার তরুর বাজারে স্থানান্তরিত করা হয়। নাজিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার দিগ্বিজয় হাজরা ইত্তেফাককে বলেন, কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাজার বসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।