বিবিসি ও আলজাজিরা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে, করোনা মহামারির পরবর্তী কেন্দ্র হতে পারে আফ্রিকা। আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মহাদেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় আফ্রিকা মহাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অপেক্ষাকৃত কম। এখন পর্যন্ত সেখানে আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজারের বেশি আর মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১ হাজার জনের। তবে গত এক সপ্তাহে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। এরকম অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকা অঞ্চলের ইমার্জেন্সি অপারেশন্সের পূর্বাভাসে এই সংখ্যা আগামী দিনগুলোতে অনেক বেশি বাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের চিত্রকে সামনে রেখে করা ঐ পূর্বাভাসে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, অভ্যাসে বদল আনার মধ্য দিয়ে এই সংখ্যায় বদল আনা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার এক টেলিকনফারেন্সে বিশ্ব স্বাস্থ্য আফ্রিকা অঞ্চলের ইমার্জেন্সি অপারেশন্সের প্রধান মাইকেল ইয়াও বলেন, ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে মারাত্মক অনুমান করা হয়েছিল, তা সত্যি হয়নি, কারণ, মানুষ সময় মতো অভ্যাসে বদল এনেছিল। করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে কোনো ধারণা করা কঠিন, কারণ, পরিস্থিতি অনেক বদলে যায় এবং জনস্বাস্থ্যগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সত্যিকার প্রভাব ফেলতে পারে।’
এদিকে আফ্রিকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে সেখানকার ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চাপ সামলাতে পারবে না বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে আফ্রিকা অঞ্চলের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক মাতশিদিসো মোয়েতি বলেন, ‘ভাইরাসটি বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভৌগোলিক দিক থেকে পরিবর্তিত হতে থাকায় আমরা আতঙ্কিত। আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।’
আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা দক্ষিণ আফ্রিকায়। কঠোর লকডাউন আরোপ করার পর দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। তবে বুরকিনা ফাসো, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক কঙ্গো ও আলজেরিয়ার মতো দেশগুলোতে গড় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এসব দেশে চিকিত্সাসেবা বাড়ানোর মাধ্যমে হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মাতশিদিসো মোয়েতি। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল প্রত্যাহার করে নেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে এই অঞ্চলে করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি পোলিও, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়ার মতো প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
