চাই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ উন্মুক্ত এলাকা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৬

জাকারিয়া স্বাধীন

যত যাই বলি আর করি না কেন রবীন্দ্রনাথের জুতা আবিষ্কারের মতো করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত মানুষের স্বস্তি নেই। তারপর সেই ভ্যাকসিন পৃথিবীর সব প্রান্তে পৌঁছানোও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। সে পর্যন্ত কি সব অবরুদ্ধ করে রাখা সম্ভব? যদিও অসচেতন জনগণের অসহযোগিতায় করোনা বিস্তারের কালো মেঘ আকাশ ঢেকে দিচ্ছে। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ হবে চার স্তরের সন্দেহভাজন ও করোনা রোগী ব্যবস্থাপনা।

ব্যবস্থাপনার প্রথম স্তরে বিদেশফেরত ও দেশের অন্য স্থান থেকে আগতদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং উপজেলা পর্যায়ে অস্থায়ী তাঁবু কেন্দ্র, হোটেল, প্রতিষ্ঠানে চৌদ্দদিন কোয়ারান্টাইনে রাখতে হবে। উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য হাসপাতাল আগের মতো ব্যবহার করা হবে শুধু সাধারণ চিকিত্সায়। দ্বিতীয় স্তরে প্রতি জেলায় ন্যূনতম করোনা সন্দেহভাজনদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক লঞ্চ, হোটেল, অস্থায়ী হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখতে হবে। যেখানে প্রত্যেককেই আলাদা রাখা হবে করোনা পরীক্ষার জন্য নিরাপদ দূরত্বে। প্রয়োজনে প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীদের এখানে চিকিত্সা দেওয়া হবে। তৃতীয় স্তরে রোগীর অবস্থা বিবেচনায় চিকিত্সা দেওয়ার জন্য আগে থেকেই হাসপাতাল নির্ধারিত ও প্রস্তুত রাখা। চতুর্থ স্তরে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের আইসিউ, সিসিইউ ও ভেন্টিলেটর সেবা নিশ্চিত করা।

করোনার প্রথম প্রতিরোধ হলো সচেতনতা এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশিতে সতর্কতা অবলম্বন ও বাইরে মাস্ক ব্যবহার করা। হাত যেন কিছুতেই নাক-মুখ-চোখ স্পর্শ না করে তা বিশেষভাবে লক্ষ রাখা।  এছাড়া অবরুদ্ধ, লকডাউন, কারফিউ প্রভৃতি। জনসমাগম এড়িয়ে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি জীবানুনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে করোনার বিস্তার রোধ করা যায়। অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। কিন্তু জনজীবন ও আর্থসামাজিক প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এ অবরুদ্ধ অবস্থা কতদিন রাখা সম্ভব তা ভাবতে হবে। বিকল্প হলো সর্বোচ্চ নিরাপদ উন্মুক্ত এলাকা নিশ্চিত করা। যা গ্রাম থেকে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা অঞ্চল যে কোনোটিই হতে পারে। তবে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে সে এলাকায় কোনো করোনা রোগী নেই। ঐ নির্দিষ্ট এলাকা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে সীমিত আকারে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

নিরাপদ এলাকায় বহিরাগত ব্যক্তির প্রবেশ ও প্রস্থান কঠোরভাবে নিষেধ থাকবে। এমনকি ১৪৪ ধারাও জারি রাখতে হবে। কেউ প্রবেশ বা প্রস্থান করতে চাইলে চৌদ্দ দিনের কোয়ারান্টাইন অবশ্যই  পালন করতে হবে। এ সময় জীবানুনাশক ব্যবহার করতে হবে ব্যবহূত যানবাহনে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন ওষুধ, কাঁচাবাজার, মাছ-মাংসসহ কোম্পানির পণ্য সরবরাহে নিয়োজিতদের জীবাণুমুক্ত রাখতে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অসহায় মানুষকে সরকারি ত্রাণ দেওয়া অব্যাহত রাখা ও সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের পরিধি বাড়ানো। প্রতিটি ব্যবহার্য হাতল, রিমোট, সিঁড়ি, লিফট, সুইচ ও অন্যান্য সামগ্রীতে জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে নিয়মিত।

করোনা পরবর্তী পৃথিবী কেমন হবে তার উপসংহার টানা কঠিন। তবে অনেক কাজ অপ্রয়োজনীয় এবং সীমিত হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে প্রকৃতিনির্ভর জীবন ও জীবিকা। বৈপ্ল­বিক পরিবর্তন আসতে পারে মানুষের বোধ ও জীবন আচারে। মানবজাতি নতুন করে খুঁজবে জীবনের অর্থ! করোনায় সভ্যতার ইউটার্ন অবশ্যম্ভাবী। গবেষকরা আমাদের জন্য আশার আলো নিয়ে আসুক। নিশ্চয়ই সৃষ্টিকর্তা সবার সহায় হবেন।

নরসিংদী