সাভার ও আশুলিয়ায় মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব
তুহিন খান, সাভার
শ্রমিক অধ্যুষিত শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব না মানায় এ অঞ্চলের মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে। এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত চার জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত চার জনের মধ্যে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকের এক জন চিকিত্সক, এক জন শিক্ষানবিশ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও হাসপাতালের এক জন কর্মচারী। এছাড়া আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া এলাকার এক জন বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরই মধ্যে সাভার উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। করোনা ভাইরাসের কারণে মার্চ মাসের শেষের দিক থেকেই স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাভার উপজেলার সবাইকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের না হতে অনুরোধ জানানো হয়। এ লক্ষ্যে সচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও জনসচেতনতা অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনের এ নির্দেশ আমলে নিচ্ছে না এলাকার মানুষ। এতে এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে ।
সাভার সদরের সড়ক কিছুটা ফাঁকা থাকলেও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও অলিগলিতে জনসমাগম ঠেকানো যাচ্ছে না। একদিকে প্রশাসন মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানায়, অন্যদিকে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় লোকজন। বিভিন্ন চায়ের দোকান বন্ধের কঠোর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অলিগলিতে গোপনে চায়ের দোকান খোলা রাখার দৃশ্য চোখে পড়ছে। পুলিশ কিংবা প্রশাসনের গাড়ি দেখলেই দোকানের সাটার নামিয়ে ফেলে দোকানিরা। পুলিশের গাড়ি চলে গেলে পুনরায় আবার দোকান খুলে বসে। স্বাভাবিক অবস্থার মতোই দোকানে বাজারে মানুষের সমাগম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বর্তমানে কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিক কলোনিগুলোতে লাখ লাখ শ্রমিক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবাধে বিচরণ করছে। শুধু শ্রমিকরাই নয়, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অলিগলিতে বিভিন্ন বয়সের তরুণ যুবকদের ক্রিকেটসহ দল বেঁধে খেলাধুলা ও আড্ডায় মাততে দেখা যায়। পাড়া-মহল্লায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষও একসঙ্গে জড়ো হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ত্রাণের আশায়।
প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে জোর তত্পরতা ও প্রচারণা চালানো হলেও বাস্তবে তা মানছে না অধিকাংশ মানুষ। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে ত্রাণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ন্যূনতম সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।
সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ বলেন, ‘আমরা জনগণকে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝিয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছি। মানুষকে ঘরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।’
সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জরিমানা করছি। এ সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে মানুষ বের হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়তই মানুষকে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের এক চিকিত্সক করোনা পজেটিভ হওয়ায় হাসপাতালটির চিকিত্সক, নার্স, স্টাফসহ মোট ৪২ জনের এবং আশুলিয়া থেকে করোনা উপসর্গ থাকা এক জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে গতকাল দুপুরে এই ৪৩টি নমুনার মধ্যে নতুন করে তিন জনের করোনা শনাক্তের তথ্য জানানো হয়।
