হাওরে ধান কাটার শ্রমিকসংকট নেই

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৫

নেত্রকোনা জেলার মদন, মোহনগঞ্জ এবং খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরগুলোতে ব্যাপকভাবে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান কাটার শ্রমিক সংকট অনেকটা কমে গেছে। শুধু তিন হাওর উপজেলায় এখন ধান কাটায় ব্যস্ত ৮ হাজার শ্রমিক আর ৫২টি হারভেস্ট মেশিন। করোনা দুর্যোগের মধ্যে আগাম বন্যার হাত থেকে বোরো ফসলকে রক্ষার জন্য দ্রুত গতিতে ধান কেটে তা ঘরে তোলা হচ্ছে। এদিকে কৃষি বিভাগ থেকে আবহাওয়াজনিত কারণে খুব দ্রুত ধান কাটার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। করোনার কারণে এই জেলার বাইরের শ্রমিকেরা আগে আসতে না পারলেও গত চার-পাঁচ দিনে শত শত ধান কাটা শ্রমিক জেলার বাইরে থেকে এসে নেত্রকোনার তিন হাওর উপজেলায় ধান কাটতে শুরু করেছে। স্থানীয় শ্রমিকেরাও ধান কাটায় ব্যস্ত। ৮/১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা প্রায় শেষ হবে বলে কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওর এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চলছে ধান কর্তন, মাড়াই আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। মাঠেই সেই ধান বিক্রিও হয়ে যাচ্ছে। এখন প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা থেকে ৭৮০ টাকায়। কৃষকেরা এই দামে লাভবান হচ্ছেন বলেও জানান।

ডিঙ্গাপোতা হাওরে ধান কাটার সময় জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে থেকে কৃষক এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ম মেনে ধান কাটার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান গতকাল শুক্রবার এই প্রতিবেদককে বলেন, মেশিনে ধান কাটায় খরচ হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। শ্রমিক দিয়ে কাটলে খরচ হতো ৬০ হাজার টাকা। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এখন ধান কাটা বা শুকাতে সমস্যা হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, কৃষি শ্রমিকেরা যাতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে না পারে সেজন্য তাদের প্রতিদিন হাত ধোয়া এবং কাছাকাছি না থেকে ধান কাটার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।