ভারতে এসএমই খাতে ৫০ হাজার কোটি রুপির প্যাকেজ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:৪১

ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) জন্যে ৫০ হাজার কোটি রুপির আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করল রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। আরবিআইয়ের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, প্রয়োজনে এই তহবিলের পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তারল্য দেশটির ন্যাশনাল ব্যাংক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, স্মল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

গভর্নর বলেন, সারাবিশ্ব এখন টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে ভারতের সম্ভাব্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই হার বেড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের ব্যাংকগুলোতে নগদের জোগান বাড়ানো হয়েছে। জিডিপির ৩ দশমিক ২ শতাংশের সমান নগদের জোগান দেওয়া হয়েছে। রিভার্স রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর ঘোষণা করেন তিনি। ৪ বেসিস পয়েন্ট থেকে কমে হলো ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে অপরিবর্তিত থাকছে রেপো রেট। উল্লেখ্য, যে সুদ হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়, তাকে রেপো রেট বলে। আর বিভিন্ন ব্যাংকের কাছ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে হারে ঋণ নেয়, তাকে বলে রিভার্স রেপো রেট।

করোনা সংকটের মধ্যে ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে চাঙ্গা রাখতে রিজার্ভ ব্যাংকের পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক টুইট বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন আরবিআইয়ের ঘোষণার ফলে দেশের ছোটো ছোটো ব্যবসা, মাঝারি ও ক্ষুদ্রশিল্প, কৃষক এবং গরিবদের সুবিধা হবে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতে লকডাউন চলছে গত ২৫ মার্চ থেকে। চলবে আগামী ৩ মে পর্যন্ত। ফলে দেশের বড়ো, মাঝারি ও ছোটো শিল্পগুলোর কাজ থমকে আছে।

তিন দশকের মধ্যে প্রথমবার সংকুচিত চীনের অর্থনীতি

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা বন্ধ থাকায় গত তিন দশকের মধ্যে এবারই ত্রৈমাসিক হিসেবে অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার তথ্য দিয়েছে চীন সরকার। শুক্রবার তাদের প্রকাশিত তথ্যে জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে চীনের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণাত্মক হয়েছে। ১৯৯২ সাল থেকে প্রান্তিক হিসেবে প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করছে চীন। এরপর এত বড়ো ধাক্কা আসেনি চীনের অর্থনীতিতে। প্রবৃদ্ধির এরকম সংকোচন আর দেখা যায়নি। গত দুই দশক ধরে চীন গড়ে বার্ষিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন করোনার প্রভাবে অর্থনীতির ক্ষতি ধারণার চেয়েও বেশি হতে পারে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম বড়ো ভোক্তা ও উত্পাদক দেশ হওয়ায় চীনের অর্থনীতির এমন ক্ষতি অন্য দেশগুলোর জন্যও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তবে বছর শেষে সার্বিক প্রবৃদ্ধি ধনাত্মক থাকবে বলে ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ অনুমান করেছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চে জিডিপির এই সংকোচন চীনে সাধারণ মানুষের আয়ে প্রভাব ফেলবে, ছোটো ছোটো অনেক কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে, বাড়তে পারে বেকারত্ব। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যেও গত বছর প্রথম প্রান্তিকে চীনের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ডিসেম্বরের শেষে উহানে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে জানুয়ারির শেষ দিকেই চীন শাটডাউন ও কোয়ারেন্টাইনের মতো কঠোর সব পদক্ষেপ নেয়। মার্চ থেকে চীন বিভিন্ন দেশ থেকে ধীরে ধীরে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া শুরু করেছে। তবে গত মার্চ মাসে দেশটির বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। সে হিসেবে কর্মসংস্থানে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।