মরণঘাতী করোনা ভাইরাসে এই পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় মারা গেছেন ২০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে আরো ১৩ জনসহ মোট ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬১ জন। প্রতিদিন এই মৃত্যুর ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।
জেলায় প্রথম করোনায় মৃত্যু শনাক্ত হয় ২ এপ্রিল। ৩০ মার্চ প্রথম নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসূলবাগ এলাকায় বসবাসরত পুতুল (৫০) নামে এক নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান।
নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ এপ্রিল রাতে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান ষাটোর্ধ্ব কোহিনূর বেগম। মৃত কোহিনূর বেগম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের গাইনি ডাক্তার মিনারা সিকদারের মা। নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মাহবুব রহমান বাবু (৩৫) চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের পশ্চিম মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। বন্দরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিএসডির (খাদ্যগুদাম) নিরাপত্তা প্রহরী মো. সুরুজ মিয়ার (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বন্দর অঞ্চলের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের একরামপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দেওভোগ আখড়ার দীঘিরপাড় এলাকার হরিহর সরকার (৫৬) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেওভোগ আখড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। এছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন গত ৭ এপ্রিল মিশনপাড়ায় সিদ্দিকুর রহমান, ৮ এপ্রিল জামতলায় আফতাব উদ্দিন, ১০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকার দুই জন, ফতুল্লায় মোকলেছ, ১১ এপ্রিল রূপগঞ্জে জলিল প্রধান, মাসদাইরে রুম্মন বাবু, ১২ এপ্রিল টানবাজার এলাকার সুজন সাহা, চাষাঢ়া বাগে জান্নাত মহল্লার বাসিন্দা কালিপদ সাহা, ১৩ এপ্রিল কলাগাছিয়ায় মিজানুর রহমান চুন্নু, ১৪ এপ্রিল দড়িসোনাকান্দা এলাকার ফেরদৌসী, গলাচিপা এলাকার দ্বীনেশ মোদক, আমলাপাড়া এলাকার কে বি সাহা রোডের সিগমা বেগম।
নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ২০ জনের তালিকা প্রকাশ করলেও করোনার উপসর্গ নিয়ে যারা মারা গেছেন তাদের তালিকা নেই বলে জানা গেছে। হুহু করে দিন দিন নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে জেলাবাসী। এদিকে ঘরে খাবার না থাকায় রাস্তায় বেরিয়ে আসছে শ্রমিকরা।
