শেবাচিমে চিকিৎসক ছাত্র করোনায় আক্রান্ত, পেছনের গেট বন্ধ উঠতি বয়সীদের

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৪০

বরিশালে আরও এক চিকিৎসকসহ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্র করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।  নতুন করে আক্রান্ত হওয়া চিকিৎসক আগৈলঝাড়া উপজেলা কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত ছিলেন এবং তার চিকিৎসক স্ত্রীও এর আগে করোনায় আক্রান্ত হন। চিকিৎসক দম্পতি ও ওই ছাত্র দুজনেই এখন শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও শেবাচিম হাসপাতালে শুক্রবার করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া বৃদ্ধও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন বলে রিপোর্টে জানা গেছে। 

শেবাচিম পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, শুক্রবার হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীদের মধ্যে ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষার করার পর তিনজনের করোনা পজিটিভ এসেছে এবং এ ইউনিটে ভর্তি থাকা ২৩ রোগীর মধ্যে ৫ জনের করোনা পজিটিভ। সব মিলিয়ে জেলায় মোট ১৭ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে দুইজন চিকিৎসক ও দুইজন নার্স রয়েছেন।

এদিকে মেডিকেল কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ওই ছাত্রের করোনা আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় তারা ছাত্রবাস লক ডাউনের দাবি জানিয়েছেন। 

অপরদিকে শেবাচিম হাসপাতালের শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হওয়া খবরে হাসপাতালের পেছনের গেট বন্ধ করে দিয়েছে কিছু উঠতি বয়সীরা। এতে কিছু মাদকসেবীও রয়েছেন বলে জানা গেছে। গেট বন্ধ করায় বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্য স্টাফরা। এ ঘটনায় তাদের অন্তত তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে হাসপাতালে ঢুকতে হচ্ছে। শনিবার সকালে উঠতি বয়সীরা জড় হয়ে বাঁশ বেঁধে গেটটি আটকে দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে কমপক্ষে ১০ জন নার্স, ৪/৫জন ডাক্তার এই গেট থেকে ঢুকতে দেয়নি স্থানীয়রা। শেষে বাংলাবাজার, পুলিশ লাইন্স, ডিসি লেক, বান্দ রোড ঘুরে মেডিকেলের সামনের গেট দিয়ে প্রবেশ করেছে তারা। এলাকার সচেতন বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যারা জীবন রক্ষার জন্য কাজ করছেন তাদের পথ আটকে দিয়ে আপমান করা হচ্ছে। ঘটনাটি নিন্দনীয়। 

এই বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি জানার পর সেখানে লোক পাঠানো হয়েছে। কেন এবং কারা করলো তাও জানা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসি