আসন্ন টোকিও অলিম্পিকে নারী ফুটবল ইভেন্টের প্রাথমিক বাছাইয়ে নিজেদের শেষ ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
আগের দুই ম্যাচে মিয়ানমার এবং ভারতের কাছে যথাক্রমে ৫-০ এবং ৭-১ গোলে হারার পর প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যদের। তারপরও শেষ ম্যাচে ইতিবাচক ফলাফল পেতে মরিয়া ছিলেন সাবিনারা।
তবে মঙ্গলবার ইয়াংগুনের থুয়ানা স্টেডিয়ামে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে মেয়েরা। ১৭ মিনিটে নেপালকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড নিরু থাপা। এরপর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ফরোয়ার্ডদের ধারহীনতায় ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ। একই দৃশ্য নিয়মিত সময়ের শেষ পর্যন্ত জারি থাকলে এক সময় পরাজয়ের শঙ্কাও পেয়ে বসে কোচ ছোটনের দলকে।
কিন্তু যোগ করা সময়ে পাওয়া একটি কর্নারে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ৯২ মিনিটের কর্নারটি থেকে ফরোয়ার্ড আঁখি খাতুন লক্ষ্যভেদ করলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। ১-১ গোলের এই ড্রতে একটা কীর্তি হয়ে গেছে বটে। সিনিয়র নারী ফুটবল দলের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত নেপালের সঙ্গে ড্র করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।
এমন ড্রয়ের পর খেলোয়াড়দের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দলের কোচ ছোটন। তিনি বলেন, ‘ভারত ম্যাচের হারের গ্লানি ভুলে খুব দ্রুতই শারীরিক এবং মানসিকভাবে সেরে উঠেছি আমরা। আমরা পেশাদারভাবেই নেপাল ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এবং আমাদের কৌশল ভালোভাবেই কাজে দিয়েছে। কর্নার থেকে আঁখি গোল করায় আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি কেননা আমরা সেট পিস থেকে গোল করার কৌশল আয়ত্ত করতে অনেক সময় ব্যয় করেছিলাম।’
সংবাদ সম্মেলনে কোচ ছোটনের সঙ্গে এসেছিলেন ম্যাচের অন্তিম সময়ে দলকে সমতায় ফেরানো ফরোয়ার্ড আঁখি খাতুনও। লক্ষ্যভেদ করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। ইতিবাচক ফল দিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করতে পেরে দলের সবাই সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি। খেলা চালিয়ে যাওয়া এবং প্রতিনিয়ত শেখার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেন আঁখি এবং তিনি এটাও মনে করেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা তার এবং তার সতীর্থদের জন্য অমূল্য অভিজ্ঞতা।
আজ দুপুর ২টায় মিয়ানমার থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে বাংলাদেশ দল। বিকেল ৪টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছবেন সাবিনা-মারিয়ারা।
