ব্রাজিলে ঝুঁকি সত্ত্বেও সীমান্ত খুলতে চান বোলসোনেরো

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ২১:০৬

রয়টার্স

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরো প্রাণঘাতী নোভেল করোনা ভাইরাসের কারণে অচল হয়ে পড়া দেশের অর্থনীতি সচল করার লক্ষ্যে সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেলসন টাইশের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

বোলসোনেরো বলেন, সীমান্ত খোলার পর করোনা ভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করলে দায় তার ওপরই এসে পড়বে। তা সত্ত্বেও তিনি আইনমন্ত্রী সার্জিও মোরোর সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ বিশেষ করে উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে থাকা সীমান্তগুলো খুলে দেওয়ার সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা বলেছেন। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়ে মতবিরোধের জেরে কট্টর ডানপন্থি এ প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী লুইজ এনরিক মেনদেতাকেও বরখাস্ত করেছিলেন।

গত সপ্তাহে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে লুইজ জনগণকে ঘরে থাকতে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার অনুরোধ দিয়েছিলেন। এ নিয়েই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বিরোধ তুঙ্গে উঠে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন করোনা ভাইরাসকে ‘সামান্য ফ্লু’ বলে অ্যাখ্যা দেওয়া বোলসোনেরো। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই কোভিড-১৯ কে হালকা করে দেখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় অপ্রমাণিত চিকিত্সা পদ্ধতিকে উত্সাহিত করেও সমালোচিত হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে লুইজ সারা বিশ্বে যে নীতি অনুসৃত হচ্ছে, সেই লকডাউন ও সামাজিক দূরত্বের পদক্ষেপেই আস্থা রাখতে চেয়েছিলেন।

শুক্রবার বোলসোনেরো জানান, সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা ও লকডাউন নিয়ে তার অবস্থান ভিন্ন হলেও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও শহরের বিধিনিষেধ শিথিলের বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত দেওয়ার এক্তিয়ার রাখেন না। এসব সিদ্ধান্ত কেবল অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও শহরের মেয়ররাই দিতে পারেন বলে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এক আদেশে জানিয়েছিল। দেশটির আইন অনুযায়ী, সীমান্ত বন্ধ ও খুলে দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতেই থাকে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত মাসে ব্রাজিল প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিলেও পণ্য পরিবহন চালু ছিল।