চট্টগ্রাম-৬: ফুরফুরে আওয়ামী লীগ, অস্তিত্ব রক্ষায় বিএনপি

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৩২

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণের প্রায় সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী বিএনপির জসীম উদ্দিন সিকদার এবং হাত পাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আবদুল আলী।

এ মহাজোট মনোনীত আওয়ামী লীগের প্রার্থী খোশ মেজাজে থাকলেও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) পরিবারের পক্ষে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় বিএনপি অনেকটা নিষ্প্রাণ।

বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় পথসভা ও গণসংযোগ চালিয়েছেন মহাজোট প্রার্থী এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও তার কর্মী-সমর্থকরা। অন্যদিকে নিরুত্তাপ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী অনেকটা অস্তিত্ত্ব রক্ষায় ব্যস্ত। ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী জসিম উদ্দিন সিকদারকে উপজেলার কয়েকটি পয়েন্টে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেলেও কোন প্রকারের পথসভা, গণমিছিল ও মাইকিং করতে দেখা যায়নি। উপজেলার আনাচে-কানাচে মহাজোট প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার ঝুলতে দেখা গেলেও তেমন একটা চোখে পড়ছে না ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ও অন্য প্রার্থীর ব্যানার পোস্টার।

টানা তিনবারের সংসদ সদস্য মহাজোট প্রার্থী এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত হয়ে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালে পুনরায় বিএনপির একই প্রার্থীকে পরাজিত করেন। সর্বশেষ ২০১৪ বিরোধীদল গুলো জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলে তিনি পুনরায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। টানা তিনবারের সংসদ সদস্য থাকাকালিন সময়ে রাউজানে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন এবং সন্ত্রাস ও হরতালমুক্ত রাউজান গড়ে তোলায় এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

এই প্রসঙ্গে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক এস.এম. জাহাঙ্গীর আলম সুমন বলেন, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী রাউজানে যে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটিয়েছে তার প্রভাবে এবারের নৌকা প্রতীকে ভোট বিপ্লব ঘটবে। আমরা লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করবো বলে আশা করি।

অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া সাকা চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে সামির কাদের চৌধুরী মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণে নতুন মুখ হিসেবে ঐক্যফ্রন্ট হতে মনোনয়ন পেয়েছেন জসিম উদ্দিন সিকদার। রাউজানের বিএনপিতে সাকা চৌধুরীর পরিবারে একটি ভালো অবস্থান থাকলেও এই পরিবার হতে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত কর্মী-সমর্থকরা মাঠে না নামায় বিএনপি অনেকটা নিষ্প্রভ।

ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী জসিম উদ্দিন সিকদার দাবি করেন, 'জনগণ সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে পারলে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তার নেতা কর্মীদের হয়রানি না করলে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।'

এ আসনে নির্বাচনে অতীতের চেয়ে ভালো পরিবেশ বিরাজ করতে দেখা যায়।

উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) সংসদীয় আসনে মোট ভোটার দুই লাখ সত্তর হাজার সাতশ ষাট জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ উনচল্লিশ হাজার আটশ নয় জন, মহিলা ভোটার এক লাখ ত্রিশ হাজার নয়শ একান্ন জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৮৪টি, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২৪টি। এর মধ্যে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র তিনটি। 

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার শামীম হোসেন রেজা দৈনিক ইত্তেফাকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা সকল কেন্দ্র পরিদর্শন করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ, আইন-শৃংখলা বাহিনী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এই আসনে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচন কেন্দ্রগুলোকে আমরা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে এসেছি।’

আরও পড়ুনঃ জয়ের ব্যাপারে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই: ওবায়দুল কাদের

ভোটারদের নিরাপত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষে পর্যাপ্ত সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ মাঠে রয়েছে।’

ইত্তেফাক/অনি/নূহু