আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরীয়তপুর শহরের প্রধান সড়কে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অংশ নেওয়া এই মিছিলে জড়িত সন্দেহে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর পৌরসভা এলাকা থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় পুলিশ বক্সের দিকে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ যান চলাচল স্বাভাবিক থাকার মধ্যেই হঠাৎ একদল নেতাকর্মী ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘চলছে লড়াই, চলবে’ এবং ‘শেখ হাসিনা লড়বে’ বলে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। ভিডিওচিত্রে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ নেতা সাইফুল মোল্লা ও ছাত্রলীগ কর্মী সাজিদ মোল্লাকে সামনের সারিতে থেকে মিছিলে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। এ সময় সাজিদ মোল্লার মাথায় প্রতীকী কাফনের কাপড় বাঁধা ছিল।
মিছিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ছাত্রলীগ কর্মী সাজিদ মোল্লা। সেখানে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মাথায় কাফন বেঁধে ‘টর্নেডোর মতো’ হঠাৎ রাজপথে মিছিল করার সাংগঠনিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবলীগ নেতা সাইফুল মোল্লার তত্ত্বাবধানে এবং ইকবাল হোসেন অপু মিয়ার নির্দেশনায় এ ঝটিকা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে।
এদিকে পুলিশ বক্সের সামনে দিয়ে এমন মিছিল যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মিছিলকারী দলের মধ্য থেকে মো. সায়েম (১৮) নামের এক তরুণকে আটক করে পুলিশ। তিনি শরীয়তপুরের পালং থানার হাজরাসার এলাকার মো. সাইদ আকনের ছেলে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ-আলম জানান, জুমার নামাজের সময় শহরের প্রধান সড়কে কয়েকজন মিলে আচমকা একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। বাকি অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
