ঝুঁকিতে শ্রমিকরা
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি চললেও এখনো বাগানে চলছে নিয়মিত কাজ। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজে নিয়োজিত শত শত নারী চা-শ্রমিক। ফলে এ শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকরা রয়েছেন চরম হুমকির মুখে।
চা-বাগানের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই টিলা ও সেকশনে দলে দলে কাজ করছেন শ্রমিকরা। শত শত নারী শ্রমিকরা উন্মুক্ত পরিবেশে কাজ শেষে একত্রে জড়ো হয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও জটলা বেঁধে পাতি ওজন দিচ্ছেন। তাদের কাজের ক্ষেত্রে ঘনঘন হাত ধোয়ারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। চা-বাগান শ্রমিকরা ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে সর্দি, জ্বর, কাশি, যক্ষ্মা, কুষ্ঠ এসব নানা ব্যাধিতে আক্রান্তের সংখ্যাও কম নয়।
মৌলভীবাজার চা-শ্রমিক সংঘের আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী ও চা ছাত্র যুবনেতা মোহন রবিদাস বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও সচেতনতায় চা-বাগানে মূলত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেই। তারা আরো বলেন, সরকার যেখানে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করছে, সেখানে ঘনবসতিপূর্ণ চা-বাগানে সবেতনে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া সময়ের দাবি। শমশেরনগর চা-বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, দ্রুত চা-বাগানে শ্রমিকদের সবেতনে ছুটি দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে নানাভাবে দাবি জানানো হয়েছে।
ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর চা-বাগান ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বাগানের বাইরের কেউ যাতে বাগানে না আসতে পারেন এবং বাগানের শ্রমিকরাও যাতে বাইরে বের না হন সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে ফিল্ডে গেলে হাত পরিষ্কারের জন্য সাবান পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) কমলগঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদ হাসান বলেন, চা-বাগানে শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে মাস্ক, সাবান দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সচেতনও করা হয়েছে। এখন শ্রমিকরা নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। তবে চা-বাগান বন্ধে মালিক পক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত জানালে সে অনুযায়ী বন্ধ রাখা হবে।
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, চা-বাগানে ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে বসবাস করছি। আমাদের প্রায় ৬ লাখ লোক করোনার ঝুঁকির মুখে। তাই চা-শ্রমিকদের মজুরিসহ ছুটি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাহিদ হোসেন জানান, চা-বাগান শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা দেয়নি সরকার। তবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নিরাপত্তার স্বার্থে চাইলে বাগানমালিকরা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারেন।
