সাঁথিয়ায় বন্ধ তাঁত কারখানা দুর্ভোগে মালিক-শ্রমিক ব্যাংক সুদ মওকুফের দাবি

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ২১:১৭

উজ্জ্বল হোসেন, সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশে পাবনার সাঁথিয়ায় বন্ধ রয়েছে সব তাঁতের কারখানা। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার তাঁত শ্রমিকসহ মালিকগণ। এক নাগারে বন্ধের কারণে তাঁতিদের অর্ধাহারে, অনাহারে দিনযাপন করতে হচ্ছে।  সাঁথিয়ার নজরুল ইসলাম নজু নামের এক প্রবীণ তাঁতশ্রমিক জানান, তিন সপ্তাহ আমাদের কোনো কাজকর্ম নেই। মহাজন কাপড় বিক্রি না করলে টাকা দিতে পারবে না।

পিপুলিয়া গ্রামের হাফিজুল, আব্দুল্লাহসহ প্রায় ১০ জন তাঁতশ্রমিক জানান, তাঁত বন্ধ থাকায় আজ তিন সপ্তাহ কোনো বিল পাই না। সাঁথিয়ার তাঁত ব্যবসায়ী আলহাজ ইন্তাজ আলী মল্লিক বলেন, প্রায় এক মাস হতে চলল কারখানা বন্ধ রয়েছে। তিনি ঋণের সুদ মওকুফের আবেদন জানান। পিপুলিয়া গ্রামের তাঁতি দেলোয়ার হোসেন জানান, ঋণ নিয়ে ৪০টি তাঁত কিনে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। তাঁত বিক্রি করে সুদের টাকা দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।  সাঁথিয়া বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার শ্রী জুয়েল চন্দ্র তাঁতিদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, তাঁতবোর্ড থেকে তালিকা চেয়েছেন। আমরা সমিতির মাধ্যমে অসহায় তাঁতি ও তাঁত শ্রমিকের তালিকা তৈরি করছি। খুব দ্রুত এগুলো পাঠিয়ে দেব বোর্ডে। এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি তালিকা জমা দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্য-সহযোগিতা আসেনি। সাঁথিয়া পৌর মেয়র মিরাজুল ইসলাম বলেন, কয়েকশ’ তাঁতি পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই তা বিতরণ করব। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম জামাল আহম্মেদ জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ এসেছিল তা বিভিন্ন উপজেলায় চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে অসহায়দের মধ্যে বণ্টন করা হচ্ছে। ত্রাণ পর্যাপ্ত না থাকায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেওয়া হবে। তাঁত মালিকদের ঋণের সুদ মওকুফের জন্য সুপারিশ করা হবে।