কবিতা

করোনাকাল

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ২১:২১

 

এসেছে ভুবনজুড়ে মহাশত্রু মানুষের।

অকস্মাত্ প্রাদুর্ভাব তার চীন দেশের উহান প্রদেশে।

শেষ ডিসেম্বর দুই হাজার উনিশে।

 

পরিচয়ে না জীব না জড়

কায়া নেই ছায়া নেই

নেই কোনো দৃষ্টিগ্রাহ্য আকৃতি-প্রকৃতি।

তবুও তারই ভয়ে আপাত জড়সড়

দুনিয়াজুড়ে গৃহবন্দি

সাতশো কোটি মানুষ।

 

মানুষের অহঙ্কার

উত্তরাধুনিক সভ্যতার বিপুল আবিষ্কার

রুখতে ব্যর্থ তাকে

নিতান্তই অকার্যকর

এই অজ্ঞাতকুলশীল শত্রু বিনাশে।

 

মানুষেরই দেয়া নাম তার

কোভিড-১৯ নোবেল করোনাভাইরাস।

কী সুন্দর এই নাম।

হলিউডের নতুন নায়িকা যেন

বিশ্বময় ফেলিয়াছে সাড়া

প্রণয়-অভিনয়ে।

 

তার পছন্দের কোনো বাছবিচার নেই

শতবর্ষী প্রবীণ কিংবা সদ্যোজাত শিশু

নারী, পুরুষ কিংবা তৃতীয় লিঙ্গ

মানুষ পেলেই হলো মত্ত হবে প্রেমে।

খুবলে খাবে শ্বাসতন্ত্র, ফুসফুস অবধি

খাবে আরো মানুষের আয়ু-পরমায়ু।

 

তার করালগ্রাসে নিস্তব্ধ বিষণ্ন আজ বিশ্বচরাচর,

বেহাল চেহারা দেখি সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ইউরোপ-আমেরিকার।

সফেদ চাদরে ঢাকা সারিবদ্ধ মানুষের লাশ হাজার হাজার,

অন্তিম শয়নে শামিল অগস্ত্যযাত্রায়,

পিছু ফেলে পৃথিবীর মায়া, স্বজনের আর্তি হাহাকার।

 

মৃত্যু সে তো চিরন্তন—তার সাথে হবে আলিঙ্গন।

তাই বলে তুচ্ছ এই করোনার কাছে,

জীবশ্রেষ্ঠ মানুষের অসহায় আত্মসমর্পণ

কিছুতেই যায় না—কক্ষনো নয়

হেমিংওয়ে জেগে আছে মানুষেরই নিশ্বাসে বিশ্বাসে,

‘মানুষ মানে না পরাজয়’ মানুষের এই বরাভয়ে শক্তি অপার।

 

একফোঁটা সাবানের পানি সইতে পারো না তুমি,

তবু কত না অহংকার

মানব শক্তির ঘায়ে করোনা তোমার,

নিষ্ঠুর সংহার মূর্তি হবে ছারখার।

মানুষ থাকবে ঠিকই নবসৃষ্ট মানব ভুবনে

ভালোবাসা-স্নেহ-মমতায়।