চিকিত্সক ও কৃষকদের প্রাপ্য মনোযোগ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৯

সাইফুল ইসলাম হাফিজ

করোনা ভাইরাসের আক্রমণে গোটা বিশ্বে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান। দিন দিন বেড়েই চলছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান লকডাউন। করোনার বিস্তার ঘটায় ইতিমধ্যে সারাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে মানুষের চলাচলে আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। যার জন্য মানুষের মনে আতঙ্ক আরো ঘনীভূত হচ্ছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে নিপতিত হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যত্ জীবন। করোনাকালের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিপুণভাবে মোকাবিলা করতে দেশের চিকিত্সাকর্মী, প্রশাসনের লোকজনসহ কয়েকটি শ্রেণি পেশার মানুষ আমাদের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে চিকিত্সকগণ একেবারে অগ্রে থেকে নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে, পরিবারের শত মায়াবি আবদার ও মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন। শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা পৃথিবীতে যখন এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে তখন প্রতিটি দেশের চিকিত্সকরা এই মহামারিকে রুখতে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন।

বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো ভালোভাবে বেঁচে থাকা ; এর জন্য দুটি জিনিস আমাদের দরকার—খাদ্য ও চিকিত্সা। অর্থাত্ করোনাকালে দুই ধরনের নিরাপত্তা দরকার, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিলাসজাত দ্রব্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। মানুষ শুধু খেয়ে বেঁচে থাকার মন্ত্র জপছে। কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কিন্তু এই আইন বাস্তবায়ন করার জন্য দরকার খাদ্যের নিশ্চয়তা। খাবার না পেলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। তখন আইন তাদের গতিরোধ করতে ব্যর্থ হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখার অন্যতম মাধ্যম হলো কৃষি। অর্থনীতির আসন্ন ধস ঠেকাতে করোনা আতঙ্কের মধ্যেও থেমে নেই কৃষকদের কৃষিকাজ। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে এখন বোরো ধানসহ বিভিন্ন জাতের ধান পাকতে শুরু করেছে। বুকভরা আশা নিয়ে ধান কাটতেও নেমেছেন কৃষকরা। ধানের বাম্পার ফলন হলেও তাদের মুখে রয়েছে হতাশার ছাপ। কারণ, শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কেটে ঘরে তোলা এখন দুঃসাধ্য কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি এই লকডাউন যদি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে তবে ধান ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা নিয়েও তাদের মনে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। এই ধানকে ঘিরেই থাকে কৃষকদের স্বপ্ন। কৃষি ফসল তাদের দৈনন্দিন জীবনে অর্থনৈতিক শক্তির সঞ্চার করে। দুর্যোগের এই সময়ে কৃষকরা যেন ক্ষতির সম্মুখীন না হয় তার জন্য সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের জন্য যারা ঝড়বৃষ্টি, প্রখর রৌদ্র উপেক্ষা করে খেতে ফসল ফলায় দেশের এই কঠিন সময়েও তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ধান কাটতে শ্রমিকের যোগান দেওয়া এবং তারা যেন সঠিক দামে ধান বিক্রি করতে পারে সেজন্য কৃষকবান্ধব একটি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায়, করোনা পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হবে। কৃষকদের জীবনেও নেমে আসতে পারে দারিদ্র্যের কশাঘাত। লকডাউনের সময়ে শ্রমজীবী মানুষকে খাবার দিতে সরকার মোটা অঙ্কের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সরকারের হেন জনবান্ধব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু যদি এই ফসলের উত্পাদন না বাড়ানো যায় তাহলে একসময় রাষ্ট্রীয় খাদ্য মজুত শূন্য হয়ে যাবে। পৃথিবীর অবরুদ্ধ অবস্থায় বৈদেশিক সহযোগিতা আসা বন্ধ হয়ে গেলে সরকার ত্রাণ দিবে কোত্থেকে? এমন পরিস্থিতিতে সরকারেরও উচিত হবে কৃষকদের সহযোগিতার পাশাপাশি খাদ্য উত্পাদনে জোর দেওয়া। যাতে করে সামনে মহামারির দিনগুলোতে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। দেশকে বাঁচাতে এবং দেশের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের যোদ্ধা চিকিত্সকগণ ও দেশের বড়ো সাধক কৃষকদের প্রতি করোনাকালের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে খেয়াল রেখে সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত দরকার।

n লেখক :শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়