রাজশাহী অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত তিনদিন ধরে এ অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। শনিবার হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে পদ্মাপারের বরেন্দ্রের জনপদ। এতে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষেরা দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্র বলছে, রাজশাহীতে শনিবার এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগের দিন শুক্রবার রাজশাহী অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭। বুধবার ছিল ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস বলছে, আরো বাড়বে শীতের প্রভাব। মধ্য জানুয়ারির (১৫ তারিখ) পর্যন্ত থাকতে পারে শীতের তীব্রতা। শেষ সপ্তার দিকে কমতে পারে শীতের দাপট।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, দিনের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান প্রতিদিনই কমছে। এজন্য একটু বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। এছাড়া শনিবার ভোর ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং সকাল ৯টায় ৮২ শতাংশ।
ঢাকা আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, পূর্বাভাস ছিল ডিসেম্বরের শেষার্ধে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু থেকে (৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) মাঝারি (৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে বর্তমানে তীব্র (৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এছাড়া মাসের শেষে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত রাজশাহী অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে বলে জানান এ আবহাওয়া কর্মকর্তা।
আরো পড়ুন: থ্রিজি-ফোরজি সেবা বন্ধ, ইন্টারনেটে ধীরগতি
এদিকে, রাজশাহী মহানগরীসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ করে শীত জেঁকে বসায় দুর্ভোগ বেড়ছে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে শীতে কাতর হয়ে পড়েছে তারা। ভোরে ও সন্ধ্যার পর এ শ্রেণির মানুষগুলোকে পথের ধারে খড়-কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা যাচ্ছে। তবে বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য।
অন্যদিকে শীতে তীব্রতা বাড়ায় ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। নগরীর গণকপাড়া ফুটপাত এখন শীতবস্ত্রের দখলে। শনিবার এ ফুটপাতের দোকানগুলোতে কয়েকদিনের তুলনায় ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বেশি বিক্রি হচ্ছে ছোট বাচ্চা ও বয়স্কদের কাপড়। মাথার টুপি, পায়ের মোজা, হাতমোজা, মাফলার, সোয়েটার, জাম্পার, ফুলহাতা গেঞ্জি। এছাড়া রাণীবাজার ফুটপাতের কম্বলের দোকানের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো।
গরম কাপড় বিক্রেতারা বলছেন, শীত বাড়লে তাদের ব্যবসাও বাড়ে। বেশি শীতের জন্য রাতভর দোকানে বেচা-বিক্রি হচ্ছে। বছরের মাত্র ক’দিন তাদের ব্যবসা ভাল চলে। বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি বিক্রেতারা।
চিকিৎসকরা জানান, তীব্র শীতের কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগীদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। আক্রান্তদের বেশিরভাগই কোল্ড ডাইরিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন বলে জানিয়েছেন, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আরিফুল হক।
এছাড়া বাড়তি শীতের কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় বোরো বীজতলার কোল্ড ইঞ্জুরি, আলুর লেট ব্লাইটসহ ডাল জাতীয় ফসলে শীতজণিত নানা রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। এ জন্য কৃষকদের স্থানীয়ভাবে নিকস্থ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি। মাঠে থাকা শীতকালীন আবাদসহ যে কোনো কৃষি পরামর্শ প্রদানের জন্য ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের জানান, শীত মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে ৯ উপজেলার জন্য ৩৭ হাজার ৮০০ কম্বল পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মহানগর এলাকার জন্য ১০ হাজার কম্বল দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
