দয়া করে সবাই ঘরে থাকুন

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৯

দেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বারবার ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আসলে মানুষ কেন যেন বেশি সাহসী হয়ে গেছে। অনেকে মানতেই চায় না। আমি সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ করছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষার যে নির্দেশনা, সবাই দয়া করে সেটা মেনে চলবেন। তাহলে কেউ করোনা ঝুঁকিতে পড়বেন না। করোনার মহামারির মধ্যেই শুধু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে গতকাল শনিবার চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের এক কার্যদিবসের ৭ম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় সারাদেশে অচলাবস্থার মধ্যে সংবিধানের ‘নিয়ম রক্ষায়’ দেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন হলো এটা। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৫টায় অধিবেশন শুরু হয়, যা সমাপ্ত হয়ে যায় দেড় ঘণ্টারও কম সময়ে। রেওয়াজ অনুযায়ী পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের মৃত্যুতে তার ওপর আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী সেই আলোচনায় অংশ নিয়ে এরসঙ্গে অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যও রাখেন।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখনো বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, সেখানে আমরা ভালো আছি। যেখানে কাবা শরিফে কারফিউ দেওয়া হয়েছে, সেখানে বলব—মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকেন। তিনি নিশ্চয়ই শুনবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার নমুনা সংগ্রহে কিটের ঘাটতি নেই। এ পর্যন্ত আমরা ৯২ হাজার কিট সংগ্রহ করেছি। এরমধ্যে ২০ হাজার বিতরণ করা হয়েছে এবং ৭২ হাজারের মতো মজুত রাখা হয়েছে। কিট সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। কাজেই কিটের অভাব হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তিনি বলেন, করোনার নমুনা সংগ্রহ শুরু থেকে সব চিকিত্সা খরচ সরকারিভাবে আমরা করে যাচ্ছি। কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয় না। বাংলাদেশে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর যথাযথ কাজ করছে। দেশের সব জায়গায় এখন করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে যেন খাদ্য ঘাটতি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখছে সরকার। বর্তমানে ৫০ লাখ মানুষকে রেশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে। আরো ৫০ লাখ লোককে রেশন কার্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ১ কোটি লোকের পরিবারের সংখ্যা যদি পাঁচ জন করে হয় তাহলে ৫ কোটি লোক খাদ্যসহায়তার আওতায় আসবেন।

শামসুর রহমান শরীফের ওপর আলোচনা

চলতি সংসদের সদস্য শামসুর রহমান শরীফের মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় যখন আমি বিদেশে ছিলাম তখন মরহুম শরীফ আমাদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। গভীর শোক জানিয়ে তিনি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘তিনি ছিলেন সংগ্রামী ও আপসহীন মানুষ।’ শাজাহান খান বলেন, ‘১/১১ এর সময় যখন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয় তখন এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি কারাগারে যান।’ বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও উপনেতা জি এম কাদেরের অনুপস্থিতিতে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা। পরে অধিবেশনের সমাপ্তি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে শোনান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন :যদিও এক দিনেই অধিবেশন শেষ তবুও অন্যান্য অধিবেশনের মতোই ৭ম অধিবেশনেও প্যানেল সভাপতি করা হয় পাঁচ জনকে। তারা হলেন—আ স ম ফিরোজ. আবুল কালাম আজাদ, এ বি তাজুল ইসলাম, কাজী ফিরোজ রশীদ ও মেহের আফরোজ চুমকী। এছাড়া দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সরকারি কর্মকমিশনের ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন।

শোক প্রস্তাব :প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার। সাবেক এমপি শামসুর রহমান শরীফ, অ্যাডভোকেট রহমত আলী, শহীদুল হক জামাল, ওয়াজিউদ্দিন খান, কাজী সেকান্দার আলী, এম এ জব্বার, রহিম উদ্দিন ভরসা, সিরাজুল ইসলাম ও হোসনে আরা ওয়াহিদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়। করোনায় সিলেটের চিকিত্সক ডা. মঈন উদ্দিন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক জালাল সাইফুরের মৃত্যুতে শোক জানায় সংসদ। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে মৃত্যুতে সংসদ শোক জানায়।

মাস্ক, গ্লাভস পরে অধিবেশনে এমপিরা

অধিবেশনে অংশ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীসহ সব সদস্যই মাস্ক-গ্লাভস পরে ছিলেন। অনেকের মাথায় সার্জিকাল টুপিও দেখা গেছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে কোরাম পূর্ণ হওয়ার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন ৬০ জন বা তার সামান্য কিছু বেশি সদস্য সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

এমপি হিসেবে শপথ নিলেন তিন জন :একাদশ সংসদের সদস্য হিসেবে গতকাল শপথ নিয়েছেন তিন জন। গতকাল বিকালে সংসদের শপথ কক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী উপনির্বাচনে বিজয়ী তিন সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান। তারা হলেন—ঢাকা-১০ আসনের শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন, গাইবান্ধা-১ আসনের উম্মে কুলসুম স্মৃতি ও বাগেরহাট-৪ এর আমিরুল ইসলাম মিলন।