করোনার উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আরো দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মারা গেলেন ১৪১ জন।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
করোনার উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালে মোহাম্মদ মনির গাজী নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মনির নাটোরের নলডাঙ্গা থানার মাধনগর গ্রামের আলম গাজীর ছেলে। অন্যদিকে করোনার উপসর্গ জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আট জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যাদের মধ্যে তিন জনকে আইসোলেশনে এবং পাঁচ জনকে পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
রামেক হাসপাতালে করোনা চিকিত্সক টিমের প্রধান অধ্যাপক আজিজুল হক আজাদ বলেন, করোনা উপসর্গ থাকায় নাটোরের ঐ যুবককে সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। এছাড়াও তার শরীরে চিকেনপক্স (হাম) ছিল। তিনি বলেন, রাজশাহী সংক্রমক ব্যাধি (আইডি) হাসপাতালে স্থাপিত আইসোলেশনে ভর্তি তিন জনের দুই জন রাজশাহীর কলাবাগান ও শালবাগান এলাকার বাসিন্দা। অপরজনের বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুরে। তাদের তিন জনের করোনার উপসর্গ থাকায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণে থাকা পাঁচ জনের করোনা উপসর্গ এখনো নেই।
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. এ বি এম আলী হাসান জানিয়েছেন। কুমুদিনী হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে গৃহবধূর মৃত্যুর খবরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কুমুদিনী হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত গৃহবধূর নাম কনা বেগম (৩০)। তার স্বামীর নাম মো. মোশারফ হোসেন। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার জথুকী গ্রামে। গৃহবধূর স্বামী মোশারফ হোসেন জানান, কনার প্রসবজনিত ব্যথা ও রক্তক্ষরণ হতে থাকে। ১৫ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৭ এপ্রিল তার অপারেশন হয় এবং পেটের মৃত সন্তান বের করা হয়। অপারেশনের পর থেকেই তার শরীরের জ্বর, খিচুনি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছেন তার স্ত্রী কনা বেগম করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে।
