আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহানারা হক শুক্রবার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। জাহানারা হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাহানারা হক প্রখ্যাত ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট সিরাজুল হকের সহধর্মিণী। ২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর মারা যান সিরাজুল হক। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা, প্রখ্যাত আইনজীবী ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চিফ প্রসিকিউটর ছিলেন। তিন বছরের ব্যবধানে আইনমন্ত্রী তার ভাই ও বোনের মৃত্যুর পর মাকে হারালেন। জাহানারা হক গত বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত্ হূদরোগসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গতকাল বাদ জোহর বনানীর ১১ নম্বর রোড সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জামে মসজিদে পারিবারিকভাবে ও সীমিত পরিসরে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তার আত্মীয়স্বজন ছাড়াও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের এমপি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, আইন সচিব গোলাম সারওয়ারসহ আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মরহুমার কফিনে গার্ড অনার প্রদান করা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
যারা শোক প্রকাশ করেছেন:
জাহানারা হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাতীয় পার্টির-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রমুখ। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম এমএসসি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. মিজানুর রহমান, কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাওসার ভুঁইয়া জীবন, কসবা পৌর মেয়র মো. এমরান উদ্দিন জুয়েলসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
