বজ্রপাতে শিশুসহ আট জনের মৃত্যু

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৫

গতকাল শনিবার বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুসহ অন্তত আট জনের মৃত্যু ঘটেছে। নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলায় বজ পাতে এক শিশুসহ দুই জন মারা গেছে। একই দিনে বজ পাতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় চার যুবক এবং সিলেট সদর উপজেলায় পিতা-পুত্রের মৃত্যু ঘটেছে।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার মদন উপজেলায় গতকাল শনিবার সকালে বজ্রপাতে এক শিশুসহ দুই জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং তিন জন আহত হয়েছে। আহতদের মদন হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। মৃতরা হলেন মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের বারগুনিয়া গ্রামের মঞ্জুরুল হকের ছেলে ইয়াহিয়া (২৫) এবং সেলিম মিয়ার ছেলে রায়হান (৯)। আহত হয়েছেন টিপন (২৭), ইসলাম উদ্দিন (২২) ও দুর্জয় (৯)।

মদন থানার পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মদনে হাওরের বোরো ধানখেতে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুই জন মারা যান এবং তিন জন আহত হন। মদন থানার ওসি রামিজুল হক বলেন, ময়নাতদন্তের পর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জে গতকাল বজ্রপাতে চার যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন শাল্লা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের সুরেন্দ্র সরকারের ছেলে শংকর সরকার (২৬), জগন্নাথপুর উপজেলার বাউধরন গ্রামের শিপন মিয়া (৩২), দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের উত্তর গাজীনগর গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে ফরিদ মিয়া (৩৫) এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার মফিজ উল্লার ছেলে কৃষিশ্রমিক তাপস মিয়া (৩৫)। শেষোক্তজন দিরাই উপজেলায় চিনাউরা হাওরে ধানখেতে কাজ করার সময় বজ পাতে মারা যান।

শাল্লা থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, শনিবার সকালে উপজেলার শাসখাই বাজারে যাওয়ার পথে মারা যান নারায়ণপুর গ্রামের শংকর সরকার। জগন্নাথপুর                থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, নলুয়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান বাউধরন গ্রামের শিপন মিয়া। এ সময় তার একটি গরুও বজ্রপাতে মারা যায়। দিরাই থানার ওসি কে এম নজরুল ইসলাম জানান, বজ পাতে মারা যাওয়া কৃষিশ্রমিক তাপস মিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, হাওরে গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান কৃষক ফরিদ মিয়া।

সিলেট অফিস জানায়, শনিবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কালারুকায় বজ্রপাতে ধানকাটা শ্রমিক পিতা-পুত্রের মৃত্যু হয়। তারা হলেন কালারুকা গ্রামের সমসর আলী (৫৮) ও তার ১২ বছর বয়সি পুত্র সাইফুল।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জেদান আল মুসা জানান, কালারুকা হাওরে কয়েক জন শ্রমিক ধান কাটতে গেলে আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে পিতা-পুুত্রের মৃত্যু হয়। এ সময় আরো ১২ জন শ্রমিক আহত হন বলে জানান তিনি। একই সময়ে সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জের দলইরগাঁওয়ে আরো ১০ জন শ্রমিক আহত হন।