সাধারণ ছুটি বাড়তে পারে ২ মে পর্যন্ত

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৬

করোনা ভাইরাসে পরিস্থিতি ক্রমাবনতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশে চলমান সাধারণ ছুটি আরো বাড়ানো হতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গতকাল সাংবাদিকদের  জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ রোধে মানুষকে ঘরে রাখতে ছুটি আরো বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। এজন্য ছুটি বাড়ানোর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

করোনার বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৩১ দিনের সাধারণ ছুটি চলছে দেশে। জানা গেছে, ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে। তবে টানা ছুটি দেশের উত্পাদন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। বিপুলসংখ্যক মানুষকে করেছে কর্মহীন। ছুটি আরো বাড়ানো হলে খাদ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এখন বোরো কাটার মৌসুম চলছে, এটাই দেশের সবচেয়ে বড়ো ফসল। বোরো কৃষকের ঘরে তুলতে ছুটির কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শ্রমিক সংকটে অনেক স্থানে বোরো কাটা যাচ্ছে না। এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা কর্মকাণ্ড চালাতে না পারলে অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেক বেড়ে যাবে। আর কর্মহীন মানুষকে দীর্ঘদিন ঘরে আটকেও রাখা যাবে না। এসব কিছু বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, করোনার যা পরিস্থিতি তাতে ছুটি বাড়ানোর তো প্রয়োজন হবে। কিন্তু আমাদের তো কিছু বিষয় চিন্তা করতে হয়। এখন বোরো ধান কাটার মৌসুম। হাওরাঞ্চলসহ যে জায়গাগুলোতে বেশি বোরো হয় সেখানে কৃষক যেতে না পারলে অবস্থা খারাপ হবে। ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সবকিছু বিবেচনা করে হয়তো প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কী হবে জানি না, আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। তবে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ছুটি হয়তো আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২ মে পর্যন্ত করা হতে পারে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা আসতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম গতকাল শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, মানুষকে ঘরে রাখতে আমরা স্ট্রিকলি এনফোর্সমেন্ট চাই। করোনা প্রতিরোধে আমাদের প্রধান অস্ত্রই হলো—আইসোলেশন এবং দূরত্ব বজায় রাখা। এটা হচ্ছে, তবে আরেকটু স্ট্রিকলি হলে সেটা ভালো হবে। তা না হলে আমরা সংক্রমণ রোধ করতে পারব না। বর্তমানে যে পরিস্থিতি তাতে ছুটি আরো বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। যেভাবে রোগী বাড়ছে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে আমরা সুপারিশ করব।