হিজড়া ও বেদেসহ দরিদ্রদের খাদ্য সহায়তায় ‘গিফট ফর গুড’

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:৪৮

বিশ্ব জুড়ে মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে চলমান সাধারণ ছুটি ও লক ডাউনের জন্য স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগণের জীবন। এতে করে কর্মজীবীরা হয়ে পড়েছেন কর্মহীন। এমন অবস্থায় কর্মহীনতা যেন তাদেরকে ফেলে দিয়েছে কঠিন সংকটে। চলমান সংকটাপন্ন অবস্থায় কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘গিফট ফর গুড’।

সমাজের নানা শ্রেণী পেশার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করছে এ সংগঠনটি।  এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার, বিভিন্ন পেশা ও সংস্কৃতির মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মিথুন দাস কাব্য জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নানা কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঢাকা সহ দেশের ছয়টি জেলায় দেড়'শ লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছে গিফট ফর গুড। মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে চার হাজার রিকশাচালক ও দিন মজুর শ্রেণীর মানুষের মাঝে। একশো গণমাধ্যমকর্মীকে দেয়া হয়েছে পার্সোনাল প্রোটেকশ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)।

কাব্য জানান, ছিন্নমূল মানুষের ক্ষুধা মেটাতেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন সংগঠনটির সকল পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবকরা। এরইমধ্যে রিকশাচালকদের মধ্যে ৩ হাজার প্যাকেট খাবার। ঢাকা, সাভার, নাটোর, মুন্সিগঞ্জ, ভোলা, মুক্তাগাছা, বরিশাল ও কক্সবাজারে হিজড়া, বেদে, গারো, সাঁওতাল, সুইপার, নদী ভাঙা মানুষদের মধ্যে চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করেছে গিফট ফর গুড।

আরও পড়ুনঃ নমুনা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত

কাব্য বলেন, কিছু মানুষ জীবন বাঁচাতে ঘরে আর কিছু মানুষ জীবন বাঁচাতে আজ বাইরে। আজ চারিদিকে খাবারের জন্য মানুষের কান্নার শব্দ। আর গিফট ফর গুড চেস্টা করছে এই মানুষগুলোর মাঝে খাবার পৌঁছে দিতে। আমরা ট্রান্স জেন্ডার, বেদে, সুইপার, গারো, সাঁওতাল, ভিন্নভাবে দক্ষ মানুষদের মাঝে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।

এরইমধ্যে ঢাকা ও সাভারে চারশো হিজড়া, নাটোরের একশো সুইপার পরিবারের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছে সংগঠনটি।

মুন্সিগঞ্জ, রাজধানীর বাড্ডা, কেরানীগঞ্জ, আটিবাজার এলাকায় বসবাসকারী চারশো বেদে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে গিফট ফর গুড। দেড়শো আদিবাসী পরিবার, অক্ষম দেড়শো পরিবার ও নিম্নমধ্যবিত্ত ২ হাজার ৮০০ পরিবারের ক্ষুধা মেটাতে তাদের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। যাদের মধ্যে দেশের জেলে, মাঝি ও দিনমজুর শ্রেনীর মানুষ।  

প্রসঙ্গত, আলোকিত শিশু স্কুলের মাধ্যমে এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৫ সালের রাজধানীর ধানমন্ডির রবিন্দ্র সরোবরে খোলা আকাশের নিচে স্কুল শুরু হয় আলোকিত শিশু স্কুল। যা এখন নাটোর ও মুন্সিগঞ্জে দুটি পূর্নাঙ্গ স্কুলে রূপ নিয়েছে। মুন্সিগঞ্জের স্কুলে পড়া অর্ধশত বেদে পরিবার তাদের জনগোষ্ঠির মধ্যে প্রথম শিক্ষার আলো পেতে চলেছে। একই ভাবে নাটোরের ৫০ জন সুইপার পরিবারের শিশু তাদের জনগোষ্ঠির মধ্যে প্রথম শিক্ষা গ্রহণ করছে।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা জানান, আইডিএলসি নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান মুন্সিগঞ্জে আলোকিত শিশু স্কুলের ভবন নির্মানে আর্থিক সহযোগিতা করছে। আর নাটোরের স্কুলটির জন্য স্থানীয় পৌরসভা থেকে ভবন দেয়া হয়েছে। এসব স্থানীয় গ্রাজুয়েটরা তাদের ক্লাস নিচ্ছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/ এমএএম