স্পোর্টস রিপোর্টার
ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জস বাটলার কয়দিন আগে করোনা ভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবিলায় অর্থ জোগান দিতে নিজের বিশ্বকাপজয়ী জার্সি নিলামে তুলেছিলেন। বাটলারের ৬৫ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করার দৃশ্য দেখে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদেরও জার্সি-ব্যাট নিলামের আহ্বান জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান। গত বৃহস্পতিবার সাকিবের আহ্বানের পর সবার আগে এগিয়ে আসলেন মুশফিকুর রহিম।
নিজের ও বাংলাদেশের পক্ষে ইতিহাস গড়া প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাট নিলামে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন মুশফিক। নিলামে ব্যাট বিক্রির অর্থ দেওয়া হবে দুস্থদের। ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে সাদা পোশাকে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়েছিলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
নিজের গৌরবের, হূদয়ের অনেক কাছের এই স্মারক মানবসেবায় উত্সর্গ করে দিচ্ছেন মুশফিক। দিনক্ষণ ঠিক না হলেও অনলাইন প্ল্যাটফরমে ব্যাট নিলামে তোলার ইচ্ছা পোষণ করছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
টেস্ট ক্রিকেটে এক যুগ পার করার পর মুশফিকের ব্যাটে বাংলাদেশ পেয়েছিল প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ। গলে রান বন্যার ম্যাচে ২০০ রান করেছিলেন তিনি। ম্যাচটিও ড্র হয়েছিল।
গতকাল ব্যাট নিলামে তোলার বিষয়ে বিডিনিউজকে মুশফিক বলেছেন, ‘অবশ্যই ব্যাটটি আমার কাছে স্পেশাল। এরকম একটা ইতিহাসের সঙ্গে নিজের নাম জড়িয়ে আছে ঐ ব্যাট দিয়েই, অনেকে চাইলেও এমন কিছুর সৌভাগ্য হয় না। প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান তো আর কেউ হতে পারবে না। আমার খুবই ভালো লাগার একটি ব্যাট এটি। কিন্তু মানুষের জীবনের চেয়ে বড়ো কিছু নেই। তাই এটিই নিলামে তুলতে যাচ্ছি।’
মানুষের উপকার করতেই এমন ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুশফিক। তিনি বলেছেন, ‘আমার এই ত্যাগের কারণে যদি দুই-একজন মানুষেরও উপকার হয়, এই দুঃসময়ে তারা কিছু সাহায্য পায়, তাহলে সেটিই আমার জন্য হবে বড়ো পাওয়া।’
এবার ভালো সাড়া পেলে ভবিষ্যতে নিজের কাছে থাকা আরো ঐতিহাসিক স্মারক নিলামে তোলার ইচ্ছা আছে মুশফিকের। যে স্মারকগুলো তার সংগ্রহে রয়েছে। এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘যদি দেখি যে ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাটে ভালো সাড়া মিলছে, তাহলে আমার কাছে আরো স্মারক আছে, সেগুলোও নিলামে তুলব। আমার ত্যাগ থেকে যদি মানুষের উপকার হয়, এর থেকে ভালো কিছু আর হতে পারে না আমার কাছে।’
এর আগেও করোনা লড়াইয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন মুশফিক। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বেতনের অর্ধেক দিয়েছেন করোনা তহবিলে। ব্যক্তিগতভাবে নিজ জেলা বগুড়ার স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পিপিই, গ্লাভস, স্যানিটাইজারও দিয়েছেন তিনি।
