স্পোর্টস রিপোর্টার
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্রিকেট দুনিয়া এখন স্থবির। সর্বত্রই ক্রিকেট বন্ধ। একের পর এক আন্তর্জাতিক সিরিজ স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। নিকট ভবিষ্যতে কবে ক্রিকেট মাঠে গড়াবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ২২ গজে ক্রিকেট না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ড। গত ১৮ এপ্রিল প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) বরাত দিয়ে ভারতীয় দৈনিক টাইমস ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে বলেছে, খেলাধুলা বন্ধ থাকায় আর্থিক বড়ো সংকটে পড়বে শীর্ষ ক্রিকেট সংস্থাগুলো।
এমনকি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশের ক্রিকেট বোর্ড দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের মূল্যায়নের সঙ্গে মোটেই একমত নয় বিসিবি। করোনার ধাক্কায় ক্রিকেট বন্ধ থাকলেও বিসিবি বড়ো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে না। কোনো আয় না হলেও আরো পাঁচ বছর টিকে থাকার সক্ষমতা রয়েছে বিসিবির। এমনটাই বলেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।
গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘পাঁচ বছর বিসিবি চলতে পারবে এটা নিয়ে আমার সন্দেহের কিছু দেখছি না।’ এই কর্মকর্তার বিশ্বাসের মূলে রয়েছে ব্যাংকে থাকা বিসিবির ৫০০ কোটি টাকার এফডিআর।
‘দেউলিয়া’ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না বিসিবির প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেছেন, ‘তারা যে শব্দটা ব্যবহার করেছে ‘দেউলিয়া’ হয়ে যাব, এখানে আমরা একমত না। চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। বড়ো রকমের প্রভাবও থাকবে কিন্তু তাই বলে দেউলিয়া হয়ে যাব, এ বিষয়ে একমত নই। এভাবে আমরা অতীতেও বোর্ড চালাইনি, ভবিষ্যতেও হবে না।’
বর্তমানে বিসিবির টিভি সম্প্রচার স্পন্সর নেই। জাতীয় দলের স্পন্সরও নেই। আয়ের বড়ো দুটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন স্পন্সর খুঁজছে বিসিবি। করোনার কারণে স্পন্সর পাওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। এখানে বৈশ্বিক অর্থনীতির মতোই ক্ষতি দেখছেন নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।
তিনি বলেন, ‘যদি বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সেটা আমার জন্য যেমন তেমনি ভারতের জন্যও। আমরা আলাদা কেউ না। সুতরাং নির্ভর করছে বৈশ্বিক অর্থনীতি কোন দিকে যায় এবং কী পরিমাণে বাজেট মার্কেটে পর্যাপ্ত থাকে। অতএব আপনাকে এটা দেখতে হবে বাজারে কী আছে এবং আপনি কী পাবেন। এগুলো পুরোপুরি অর্থনীতির ওপর নির্ভর করবে। তবে প্রভাব অবশ্যই থাকবে।’
তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনই সংস্থার বিভিন্ন দপ্তরের বেতন কাটার পথে হাঁটতে চায় না বিসিবি। আর্থিক ক্ষতির ভয়ে খুব ভীত নয় সংস্থাটি।
