মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রাণঘাতী করোনার প্রভাবে কুমিল্লার ১৭টি উপজেলা, আটটি পৌরসভা ও একটি সিটি করপোরেশনসহ গ্রামাঞ্চলের নরসুন্দরদের (নাপিত) চরম দুর্দিন যাচ্ছে। জেলার অন্তত পাঁচ সহস্রাধিক সেলুনের ১২ সহস্রাধিক নরসুন্দর এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের পরিবার অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। কয়েক জন সেলুন মালিক, সমিতির নেতা ও নরসুন্দরের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্দিনের নানা তথ্য জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে, সড়কের পাশে ও বিভিন্ন এলাকার আনাচে-কানাচে ৫ হাজারের বেশি সেলুন রয়েছে। ছোটো-বড়ো এসব সেলুন ছাড়াও ভাসমানসহ ১২ হাজারের বেশি নরসুন্দর চুল, দাড়ি, গোঁফ কেটে ও মাথা ন্যাড়া করার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্বাভাবিক সময়ে দিনে-রাতে বিশেষ করে শহর ও উপজেলা সদরের সেলুনগুলো সরগরম থাকত। কিন্তু করোনার সংক্রমণ রোধে সেলুনগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে তাদের জীবন উলটপালট হয়ে গেছে। এখন কাজ নেই, তাই থেমে গেছে তাদের আয়-রোজগার। তাই তাদের জীবনে নেমে এসেছে দুর্দিন।
নরসুন্দর সমিতির সদস্য নারায়ণ চন্দ্র পাল জানান, দেশে করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পরই প্রশাসনের নির্দেশে সেলুনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে নরসুন্দরগণ। কাজকাম নাই, আয়ও বন্ধ। তাই আমরা খুব কষ্টে আছি। হরিপদ চন্দ্র ও বাসুদেবসহ কয়েক জন নাপিত বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বেকার হয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছি, কিন্তু এখনো আমাদের ভাগ্যে এক মুঠো ত্রাণসামগ্রী জোটেনি। নগরীর ইপিজেড সড়কের রিপন হেয়ার কাটিংয়ের মালিক রিপন চন্দ্র বলেন, ‘সেলুন বন্ধ। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাসাবাড়ি গিয়ে চুল ছাঁটানোর জন্য দু-একজন ফোন দিচ্ছেন। পরিচিত মানুষ হলে জীবিকার প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে চুল কেটে দিয়ে আসছি। সরকারি কোনো সহায়তা পাচ্ছি না।’ কুমিল্লা সেলুন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সন্তোষ কুমার শীল বলেন, ‘সরকারি নির্দেশে দোকান বন্ধ রয়েছে। এতে মহানগরসহ জেলার ১২ হাজারেরও বেশি নরসুন্দরের সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে, আমাদের কষ্টের পাল্লা তত ভারী হচ্ছে। এজন্য সরকারের নিকট ত্রাণ সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।’ কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, অসহায় মানুষদের সহায়তার জন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী রয়েছে। তবে নরসুন্দরদের বিষয়টি শুনেছি। তাদেরকে নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলা হচ্ছে। এর পরও কেউ ত্রাণ না পেলে আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
