তৌহিদ আজিজ
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে কাঁপছে বিশ্ব। মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। কোনোভাবেই আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। রীতিমতো দুয়ারে দাঁড়িয়ে ‘মৃত্যুদূত’। প্রাণ বাঁচাতে টিকা আবিষ্কারে গবেষকদের প্রাণপণে চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো আশাব্যঞ্জক খবর পাওয়া যায়নি। তাই এর লাগাম টেনে ধরতে সচেতনতা, নিরাপদ দূরত্ব আর বাড়িতে থাকা ছাড়া আপাতত কোনো বিকল্প নেই। যে চীনের উহান থেকে এই ভাইরাসটির উত্পত্তি সেই দেশটিতে এর আগেও একই ধরনের মহামারি আঘাত হেনেছিল। তখন প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯১০ সালে। ‘গ্রেট মাঞ্চুরিয়ান প্লেগ’ নামে পরিচিত ছিল সেটি। সে সময়েও বণ্যপ্রাণী থেকে এর সংক্রমণ হয়েছিল। বিশেষ করে এসব প্রাণীর ব্যবসা থেকেই এর সূত্রপাত হয়। বহু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও তখন এর প্রাদুর্ভাব ঠেকানো যায়নি। ফলে গোটা উত্তর পূর্ব চীনে এটি নির্দ্বিধায় তার ধ্বংসলীলা চালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে যখন এর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসে তখন (১৯১১ সাল) চীন সরকার দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় শেংইয়ায়ং শহরে ‘ইন্টারন্যাশনাল প্লেগ কনফারেন্স’ নামে একটি সম্মেলন ডাকে। বিশ্বের বড়ো বড়ো দেশের ভাইরোলোজিস্ট, ব্যাকটেরিয়ালোজিস্ট ও রোগ বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেন। বৃহত্ দেশের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই প্রাদুর্ভাবের কারণ বের করা। যাতে করে এ ধরনের মহামারি ভবিষ্যতে যদি আবার হানা দেয় তাহলে যেন এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হাজারো মানুষের প্রাণ রক্ষা করা যায়। কিন্তু সেদিনকার আলোচনায় বিশ্বনেতারা কতখানি দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন তা আমাদের জানা নেই। তবে তারা যদি এ নিয়ে প্রামাণিক কোনো সমাধান দিতে পারতেন তাহলে আজকের এই করোনা এত ভয়ংকর রূপ নিতে পারত না। প্রায় ১১০ বছর আগের ঐ ভাইরাসটির উত্পত্তিস্থলের সঙ্গে বর্তমান ভাইরাসের উত্পত্তিস্থলের যেন মিল রয়েছে। দুটোই প্রাণী দেহ থেকে সংক্রমিত হয়ে বিস্তার লাভ করেছে। সে সময়ে যে শহরটিতে ঐ মহামারি দেখা গিয়েছিল তার বর্তমান নাম হারবিন। এটি তখন মাঞ্চুরিয়ান নামে পরিচিত ছিল। শহরটি তখন বহির্বিশ্বের কাছে বেশ পরিচিত ছিল। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়েও এর বেশ কদর ছিল। সে সময়ে ইউরোপ, আমেরিকা ও জাপানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে টারবাগান মারমোট নামে এক ধরনের কাঠবিড়ালির পশমের বেশ চাহিদা ছিল। এই প্রাণীটির আবাসস্থল ছিল মঙ্গোলিয়া এবং পার্শ্ববর্তী মাঞ্চুরিয়ার তৃণভূমি এবং স্তেপ অঞ্চল। স্থানীয় শিকারিরা এই প্রাণীগুলো শিকার করে পশম সংগ্রহ করতেন। আর এই প্রাণীর সংস্পর্শই তখন কাল হয়ে দাঁড়ায় মাঞ্চুরিয়াবাসীদের জন্য। গ্রেট মাঞ্চুরিয়া তখন গ্রেট মহামারি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। —সিএনএন অবলম্বনে
