করোনার প্রভাব
মো. রাকিবুল ইসলাম, কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পোলট্রি খামারিদের প্রতিনিয়ত লোকসান গুণতে হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এ শিল্প। শিল্পটি বাঁচাতে সরকারিভাবে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩১৩টি খামারের ৩৫৪ জন মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পোলট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। খামারগুলোতে ৫ লাখ ৬১ হাজার ৩৩০টি মুরগি রয়েছে। এর মধ্যে সোনালি ৪ লাখ ২০ হাজার, বয়লার ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৩০ এবং লেয়ার জাতের মুরগি রয়েছে ১১ হাজার ৬০০টি। সোনালি ও বয়লার মুরগি থেকে দৈনিক ৪ হাজার ৬২৩ কেজি মাংস ও লেয়ার মুরগি থেকে ৭ হাজার ৭৩০টি ডিম উত্পাদন হচ্ছে।
কিন্তু করোনার প্রভাবে উত্পাদনের তুলনায় মুরগি ও ডিমের চাহিদা কমেছে অনেক। আগে খামারিরা সোনালি মুরগি বিক্রি করত ২২০ টাকা কেজি, বয়লার ১১০ টাকা আর ডিম বিক্রি করত প্রতিটি ছয় টাকা ২৫ পয়সায়। আর এখন সোনালি মুরগি ১৪০ টাকা, বয়লার ৭০ টাকা কেজি আর ডিম প্রতিটি চার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। অব্যাহত লোকসানের কারণে অধিকাংশ খামারিদের মূলধন প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর মূলধন না থাকলে খাদ্য কেনার মতো অর্থ থাকবে না তাদের। কিন্তু এই দুঃসময়েও খামারিদের প্রতি কারো নজর নেই। নজর নেই যে শিল্প থেকে দেশের জনগোষ্ঠীর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটে সেই শিল্পটির প্রতি। উপজেলার নান্দিনামধু গ্রামের খামারি এনামুল কবীর রিপন জানান, আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে চাকরির খোঁজ না করে লেয়ার মুরগির খামার করি। কিন্তু করোনার কারণে প্রতিদিন লোকসান গুণতে হচ্ছে। সরকারের কোন অনুদান বা প্রণোদনা না পেলে হয়তো আর খামার চালাতে পারবো না।
