কারখানায় লে অফ স্থগিতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৩

রিয়াদ হোসেন

করোনা পরিস্থিতিতে কারখানা লে অফ (সাময়িক বন্ধ) করা নিয়ে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকরা বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে। ইতিমধ্যে গার্মেন্টস খাতের বেশির ভাগ কারখানাই লে অফ ঘোষণা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু সরকারের সাধারণ ছুটি চলাকালীন কারখানা লে অফ করা যায় কি না, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, সরকারের সাধারণ ছুটি অবস্থায় কারখানা লে অফ কিংবা শ্রমিক ছাঁটাই করা যায় না। বাংলাদেশ বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কারখানা লে অফ ঘোষণা বেআইনি এবং অযৌক্তিক। এখন সরকারি সাধারণ ছুটি চলছে। এ পরিস্থিতিতে লে অফ ঘোষণা করা যায় না। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। অন্যদিকে মালিকপক্ষ বলছেন, যে কোনো ধরনের মহামারি পরিস্থিতিতে কারখানা লে অফ ঘোষণা করার বিষয়টি শ্রম আইনেই আছে। সরকারের সাধারণ ছুটির বিষয়ে তাদের মন্তব্য, শ্রম আইনে সাধারণ ছুটির বিষয়ে কিছুই বলা নেই। ফলে সাধারণ ছুটি ইস্যুটি এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।

সূত্র জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। শ্রম আইনের ৩২৪ ধারায় লে অফ কিংবা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো বিষয়গুলো স্থগিত করার এক্তিয়ার রয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের। শ্রমিক নেতারা বলছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকের স্বার্থ বিবেচনায় এবং সরকারি ছুটির মধ্যে লে অফ স্থগিতে মন্ত্রণালয়ের এগিয়ে আসা দরকার। এ ইস্যুতে একাধিক শ্রমিক সংগঠন শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে বর্তমানে ছুটি বলবত্ থাকা অবস্থায় লে অফের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এর আগে একই ধরনের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

যোগাযোগ করা হলে ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় ইত্তেফাককে বলেন, বিভিন্ন দাবি নিয়ে আমাদের কাছে কিছু চিঠি আসছে। তবে আইনি ব্যাখ্যার মাধ্যমে লে অফ বাতিলের দাবি এখনো শ্রমিকপক্ষগুলোর কাছ থেকে আসেনি। তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট দাবি না আসলে আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে এটি করতে পারি কি না, তাও ভাবতে হচ্ছে। অবশ্য বাংলাদেশ বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের দাবি সম্বলিত চিঠিটি তখনো তিনি পাননি বলে জানান।

সূত্র জানিয়েছে, লে অফ অবস্থায় যে কোনো কারখানার শ্রমিকেরা মূল বেতনের অর্ধেক এবং বাড়িভাড়া ভাতা প্রাপ্য হবেন। এ দুটি মিলিয়ে একটি মূল বেতনের সমান হয়। এটি কার্যকর করা হলে মালিকদের প্রায় অর্ধেক অর্থ বেঁচে যায়।

অন্যদিকে যেসব শ্রমিক কারখানায় এক বছরের কম সময় ধরে কাজ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে লে অফের ঐ অর্ধেক পাওনাও প্রযোজ্য হবে না। অর্থাত্ তারা কোনো ধরনের অর্থই পাওনা হবেন না। শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, কারখানাগুলোতে এই ধরনের শ্রমিক গড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। অর্থাত্ লে অফকালীন সময়ের জন্য প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ শ্রমিক পুরোপুরি বঞ্চিত হবেন।