জিয়াউল হক সরকার
ভোরের বাতাসে ভিন্ন এক স্বাদের ঘ্রাণ পাওয়া যায় ফুল ফোটা নিমগাছের পাশে। চৈত্র-বৈশাখের মাঝামাঝি একবার ফুল ফোটে। দিনের বেলায় ভ্রমর গুনগুন করে ফুলের মধু চাটে। নিম ফুলের অভিজ্ঞতা না থাকলে হঠাত্ করে গাছের পাশে গিয়ে চমকে যেতে হয়—কোথা থেকে আসছে এ ঘ্রাণ! নিম ফল দেখতে আঙ্গুর ফলের মতো। মানুষের জন্য নয়। পাখিরা খায় মজা করে। নিম ঔষধি প্রজাতির উদ্ভিদ। নিমগাছের চিকন ডাল দিয়ে দাঁত মাজার অভ্যাস করলে দাঁত ও মুখের উপকারিতা বহুগুণ। দাঁত নানা রোগ থেকে মুক্ত থাকবে। নিমগাছের পাতা পানিতে সেদ্ধ করে গোসল করলে শরীরের হালকা ব্যথা ভালো হয়। প্রচণ্ড ব্যথায়ও উপকার মেলে। কাঁচা নিমপাতা বেটে একজিমা, চুলকানির স্থানে মেখে দিলে ধীরে ধীরে কমে।
ঔষধিগাছ হিসাবে বন অধিদপ্তর বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সামাজিক বনায়ন প্রকল্পে চারা রোপণ ও বিতরণ করে আসছে। নিমগাছের ডালপালা জ্বালানি হিসেবেও চমত্কার। জনশ্রুতি রয়েছে রান্না সুস্বাদু হয়। নিমগাছের কাঠ মূল্যবান। নিম ফুল ফোটার সময় এখন। যাদের বাড়ির আঙিনা বা বাগানে নিমগাছ রয়েছে, সূর্য ওঠার আগে নিমগাছের পাশে গিয়ে উপভোগ করুন মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ।
