হায়দার আহমদ খান এফসিএ
১৯৭১ সাল থেকে ২০২০ সাল, সময় খুব একটা কম নয়। দীর্ঘ ৪৯ বছর, ২০২১ সালে বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে। এমন এক সময় ২০২০ সালে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশও নভেল করোনা ভাইরাসে (COVID-19) আক্রান্ত। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখ চীনের উহান শহরে শুরু হয়ে এই মুহূর্তে বিশ্বের প্রায় সবকটি দেশ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন (www.worldometers.info)। বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে চিন্তার সময় এসেছে, কারণ মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রুত। এই নভেল করোনাকে নিয়ন্ত্রণের একমাত্র পন্থা রোগীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা এবং বাকিদেরকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা এবং প্রয়োজনে Lockdown কার্যকর করা। যেহেতু বর্তমানে মহামারি আকারে করোনা দেখা দিয়েছে সেকারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (World Health Organisation-WHO) সুপারিশে অন্যান্য দেশের মতো আমাদের সরকারের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী দেশের মানুষ ঘরে বন্দি। সরকারের নির্দেশে দেশের সকল অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বর্তমান এপ্রিল মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ। দেশের সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলী বন্ধ। সরকারের নির্দেশে অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংকের বিশেষ কিছু শাখাসহ জরুরি সেবাদানের কার্যাবলী চালু আছে। এক কথায় বর্তমানে সারাবিশ্বের সঙ্গে আমাদের দেশের সকল অর্থনৈতিক কাজ বন্ধ। মনে হচ্ছে আরো বেশ কিছুদিন এভাবে চলবে। কারণ আমাদের নিকট প্রতিবেশী ভারত মে মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত Lockdown বজায় রেখে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
বিশ্বে বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৭৭৭.৭৬ কোটি এবং বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি (www.worldometers.info)। ১৯৭১ সালে সাড়ে ৭ কোটি মানুষ নিয়ে বাংলাদেশের শুভ সূচনা হয়। সময়ের পরিবর্তনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটারের বাংলাদেশে ২০২০ সালে নতুন মুখ যোগ হয়েছে ৯ কোটি। বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় মানবসম্পদ। মানবসম্পদ সৃষ্টির জন্য ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে বিশ্বে শুরু হয়েছিল ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন। বাংলাদেশের প্রায় ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র যাদের দৈনিক আয় ১.২৫ মার্কিন ডলারের কম (Bangladesh Economic Review 2017)। অন্য এক সংবাদে দেখা যায় আরো সাড়ে ৪ কোটি বেকার এবং শিক্ষিতের মধ্যে ৪৭ ভাগ বেকার। ১ কোটি শ্রমিক চাকরি নিয়ে বিদেশে। এক কথায় বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ এদের হাতে কোনো সঞ্চয় নেই। বর্তমান বিশ্বের মহামারির সময়ে সরকারের সিদ্ধান্তে এবং অবশ্যই মানুষের কল্যাণে সামাজিক দূরত্ব এবং Lockdown বজায় রাখার কারণে এই ১০ কোটি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার সম্মুখীন। এক দিকে মহামারির ছোবলে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের জীবন হুমকির সম্মুখীন অন্য দিকে ১০ কোটি মানুষের খাদ্য সমস্যা। এক কথায় উভয় সংকট। করোনা এমন এক মহামারি ভাইরাস যা দেখা যায় না, অনুমান করা যায় না এবং এখন পর্যন্ত চিকিত্সারও সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিতরাও করোনা আক্রান্তের সম্মুখীন। এমন ঝুঁকি নিয়েও তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিছু ভুল বুঝাবুঝি যে নেই তা নয়, থাকতেই পারে। করোনা এমন এক হুমকি যা নিজের জীবনের সঙ্গে জড়িত এবং এ কারণেই হয়তো সংবাদে এসেছে ‘করোনা সন্দেহে মাকে সখীপুরের বনে ফেলে গেলেন সন্তানেরা’ একটি পত্রিকায় সমস্যা প্রকট। সরকারকে শক্ত হাতে পরিকল্পনা মতো কাজ করতে হবে কারণ বাংলাদেশের সমস্যা উন্নত বিশ্বের তুলনায় ভিন্ন।
বিশ্বের সকল সফল অর্থনীতিবিদগণ মহামারি মোকাবিলায় কেমন অর্থনৈতিক কর্মসূচি নিতে হবে তার রূপরেখা দিয়ে যাচ্ছেন। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড়ো বেশি প্রয়োজন বাংলাদেশের মতো দেশে খাদ্যনিরাপত্তা। কাজ না থাকায় একটি বড়ো অংশের মানুষের হাতে টাকা থাকবে না। ব্যবসায়ীরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হবে। বাংলাদেশ যেহেতু এখন আর আগের মতো উন্নয়নশীল দেশ নয় সেকারণেই ইচ্ছামতো সাহায্য- সহযোগিতাও পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে সব দেশই একই সমস্যার সম্মুুখীন। ইনশাআল্লাহ মহামারি খুব সহসাই নিয়ন্ত্রণে আসবে তখন মহামারি উত্তর অর্থনীতি সুন্দর, সাবলীলভাবে চলার জন্য সবার সহযোগিতায় রাষ্ট্রীয় কাজ পরিচালনা করতে হবে। ১৯৭১ সালের মতো বাংলাদেশের মানুষের সরকারকে মহামারি উত্তর অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করার মতো পরিবেশ বিদ্যমান।
n লেখক :চেয়ারম্যান, এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন—ইডিএ
