বেগম রোকেয়া অনেক আগেই ‘চাষার দুক্ষ’ প্রবন্ধে দরিদ্র অসহায় রংপুরবাসীর অবস্থা তুলে ধরেছিলেন। কয়েক শ বছর আগে এ অঞ্চলের মানুষগুলোর অবস্থা যেমন ছিল; তার উন্নতি হলো কই? আজো যেখানে ত্রাণের ন্যায্য ভাগটুকু পাওয়ার জন্যে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে হয়, যেখানে ভাত চাইতে গিয়ে বেকার-কর্মহীন বাবার কড়া শাসনে ছোট্ট দশ বছরের আফরোজা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে বাধ্য হয়! অথচ, এসব তো হওয়ার কথা ছিল না। বাবার কাছে ছোট্ট আফরোজার ভাত চাওয়া কি অপরাধ? কিংবা ত্রাণের চালের জন্য রাস্তায় নামা কি শোভন? একজন বাবা কেন তাঁর দশ বছরের শিশুকে ভাত দিতে অক্ষম? কেন সরকারি ত্রাণের চাল পাওয়ার জন্য বিক্ষোভ করতে হবে? দুটোর কারণই এক; তা হলো ক্ষুধা। খেটেখাওয়া মানুষগুলোর ভাবনা—‘করোনায় না মরলেও ক্ষুধায় মারা যাব।’ তাই তো তাদের আটকে রাখা যাচ্ছে না, আর যাবেও না। পেটের দায়ে তারা পথে নামবেই। তাই, আগে এ হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে সুন্দর-সুশৃঙ্খল ভাবে ? কারো একার পক্ষে তা সম্ভবও নয়। এ মুহূর্তে দরকার সকলের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা আর সততা। প্রশাসনের উচিত সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তত দু’বেলা খাবার ঘরে ঘরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা। তবেই এদের ঘরে রাখা যাবে।
মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমান
বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
