ফটো সাংবাদিকের ওপর মারধরের ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বদলি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ২১:৫৮

বরিশালে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে লকডাউন উপেক্ষা করে লোক জড়ো করে অবৈধভাবে মদ বিক্রি ও সাংবাদিককে মারধরের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বরিশাল মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক হাফিজুর রহমানকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে একই পদে বদলি করা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে মদ বিক্রি এবং দায়িত্ব পালনরত এক টেলিভিশন ফটো সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার থেকেই তার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে বরিশালের সাংবাদিকরা। কিন্তু শাস্তির বদলে তাকে একই পদে ময়মনসিংহে বদলির ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. মামুন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ঐ কর্মকর্তার প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর বরিশালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিতোষ কুমার কুন্ডুকে। লকডাউনের মধ্যেই মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে অবৈধভাবে মদ বিক্রি এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার পরও তাকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে অতিরিক্ত পরিচালক পদে বদলি করার বিষয়টিকে পুরস্কার হিসেবে দেখছেন তারা।

বরিশাল টেলিভিশন মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক আকতার ফারুক শাহিন বলেন, যাদের মাদক নিয়ন্ত্রণ করার কথা, সেই মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিসেই মাদক বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদে মিডিয়াকর্মীরা ছুটে গিয়েছিলেন। ঘটনার সত্যতা জানতে পেরে ছবি তুলতে গেলে বাংলাভিশনের ক্যামেরাপারসন কামাল হোসেনকে টেনে-হিঁচড়ে ভেতরে নিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তার ক্যামেরা ভেঙে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সাংবাদিকরা। তাত্ক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি টিম ও র্যাব কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধার করে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, তিনি অফিসে বসবাস করতেন এবং সবকিছুই তার মদদেই হয়েছে। একই অভিমত পোষণ করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।