সারা দেশে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে সাধারণ ছুটি। বহু জেলায় চলছে লকডাইন। এতে কাজ করতে না পেরে দরিদ্র শ্রমিকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সরকার ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে অনেকেই মনে করছেন তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ করে সড়ক অবরোধ করেছেন কর্মহীন অসহায় দরিদ্র মানুষ। ত্রাণের বরাদ্দ জানতে চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের কচুয়ায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর—
মাদারীপুর :মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের অসহায় কর্মহীন দিনমজুর মানুষ গতকাল ১০টার দিকে ত্রাণের দাবিতে সমাদ্দার এলাকার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। তিন সপ্তাহ আগে ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হলেও ত্রাণ দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ‘সাড়ে ৮ হাজার পরিবারের ত্রাণ প্রয়োজন। পেয়েছি মাত্র ৬৮৬ পরিবারের জন্য।’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা জানান, ‘ত্রাণের দাবির কথা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
কচুয়া (চাঁদপুর) :কচুয়ার পাথৈর ইউনিয়নের বড়দৈল গ্রামে ত্রাণের বরাদ্দ জানতে চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। গতকাল এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, পাথৈর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ও ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জুয়েলের মধ্যে অনেক দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য মো. সালমান চৌধুরী কাইয়ুম তার নিজ ফেসবুকে আইডিতে ‘কত বস্তা চাল আসে তা প্রকাশ করে দেওয়া একান্ত কাম্য’ দাবি করে একটি স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জুয়েলের সঙ্গে ছাত্রলীগের ঐ নেতা সালমান চৌধুরী কাউয়ুম ও মাহমুদুল হাসানের বাগিবতণ্ডা হয়। পরে বাড়ি ভাঙচুর ও সংঘর্ষ হয়। আহতরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
বরিশাল :বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কাউনিয়ায় ত্রাণের দাবিতে বরিশাল-লাকুটিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে নিম্ন আয়ের মানুষ। গতকাল বেলা ১১টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় এক মাস তাদের ঘরে খাবার নেই। তারা বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করছেন না। তারা প্রশাসনের মাধমে ত্রাণের ব্যবস্থার দাবি জানান। কাউনিয়া থানার ওসি অপারেশন হিরন্ময় সরকার জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে ত্রাণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হলে তারা ঘরে ফিরে যান।
ঈশ্বরদী (পাবনা) :সরকারি ত্রাণের দাবিতে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে সলিমপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামবাসী। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নওদাপাড়া ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ এ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে জরুরি পণ্য সরবরাহকারী যানবাহন আটকা পড়ে। সলিমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হাফিজ খান জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই ওয়ার্ডে ৬০ জনকে ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছে। এখানে অন্তত ৫০০ কর্মহীন ও অতিদরিদ্র মানুষ রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ আবার এসেছে, এবার নওদাপাড়া এলাকায় ত্রাণ দেওয়া হবে। সলিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা জানান, আগামী বুধবার ঐ এলাকার মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
গাজীপুর :গাজীপুরে অস্থায়ী বাসিন্দাদের ত্রাণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ত্রাণের দাবি জানিয়ে মহানগরীর মালেকের বাড়ি এলাকায় ‘কিশোরগঞ্জ এলাকাবাসীর’ উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখত বক্তব্য পাঠ করেন মো. জাহিদুল ইসলাম হারিছ। তিনি গাজীপুর এলাকার কিশোরগঞ্জে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিকের জন্য ত্রাণের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘর-দোকান ভাড়া সাময়িকভাবে স্থগিতের ব্যবস্থার অনুরোধা জানান।
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) :করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঘরবন্দি অসহায় ও নিঃস্ব পরিবারগুলো ত্রাণ না পাওয়ায় শিবগঞ্জের কয়েক স্থানে রাস্তায় বেরিকেড সৃষ্টি করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। রবিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের বনকুল গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ রাস্তায় সজিনাগাছ ফেলে বেরিকেড সৃষ্টি করে। এ সময় শিবগঞ্জ-মনাকষাগামী ও বিনোদপুর, মনাকষা থেকে শিবগঞ্জগামী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন কিছুক্ষণ আটকা পড়ে। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে বেলা ১১টার দিকে আদিনা কলেজ মোড়ে বাঁশ ও গাছ ফেলে একইভাবে বেড়িকেড সৃষ্টি করা হয়। এখানেও যানজট সৃষ্টি হয়। পরে থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে এ সময় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পুলিশের কথাকাটাকাটি হয়।
