খুলনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনসহ ছাত্র ও যুবলীগের পাঁচ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার সকালে দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর বাজারের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত গাজী জাকির হোসেন দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বারাকপুর ইউপি চেয়ারম্যান। হামলার সময় পুলিশ শটগানের তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ উভয় গ্রুপের ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজী জাকির হোসেনসহ পাঁচ জন তিনটি মোটরসাইকেলে দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের সভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে বারাকপুরের বাড়ি থেকে বের হন। বারাকপুর বাজার সংলগ্ন স্থানে পৌঁছলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় চেয়ারম্যান জাকির হোসেনসহ তার সঙ্গে থাকা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি খাজা শেখ, যুবলীগ নেতা ইসরাইল চৌধুরী এবং খুলনা জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাইদুল চৌধুরী ও মাসুম মোল্লা আহত হন। আহতদের মধ্যে চার জনকে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণে চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনকে বাড়িতে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।
আহত গাজী জাকির হোসেন বলেন, বারাকপুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনসার শেখ ও তার চাচাতো ভাই ফরহাদ গাজীর নেতৃত্বে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে খুলনার সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) রাজু আহমেদ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার গাজী জাকির হোসেন ও তার লোকজনের সঙ্গে বারাকপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনার জের ধরে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর মোরশেদ।
