চাষিদের ১০ লাখ টন লবণ অবিক্রীত

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩২

বিক্রি না হওয়ায় উত্পাদিত লবণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় প্রান্তিক লবণচাষিরা। পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার লবণ উত্পাদন ভালো হয়েছে। কিন্তু মিলমালিকরা আশানুরূপ লবণ কিনছে না। ফলে চাষিদের কাছে প্রায় ১০ লাখ টন লবণ মজুত রয়েছে। লবণ স্টক করার মতো সুবিধা নেই চাষিদের। ফলে যদি হঠাত্ বৃষ্টি হয় তাদের লবণ নষ্ট হয়ে লোকসানে পড়তে হবে চাষিদের। আবার লবণ উত্পাদনের বাম্পার ফলন হলেও মিলমালিকদের কারসাজিতে লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চাষিরা প্রতি মণ লবণ ১৪০ টাকার বেশি পাচ্ছে না। মিলমালিকদের দাবি লকডাউনের কারণে মিল চালানো যাচ্ছে না। মিলে শ্রমিক নেই। তাই চাষিদের কাছ থেকে লবণ কেনা কম হচ্ছে।

বিসিক সূত্র জানায়, চলতি বছরে গত ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১২ লাখ ৮৩ হাজার ২২৫ টন লবণ উত্পাদন হয়েছে। সামনে আরো মে মাস পর্যন্ত লবণ উত্পাদনের মৌসুম রয়েছে। ফলে ১৮ লাখ টনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সমস্যা হবে না। বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের ডিজিএম মো. হাফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘চাষিরা লবণের ন্যায্যামূল্য পাচ্ছে না। মিলমালিক লবণ কিনছে কম। ১০ লাখ টন লবণ অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। কক্সবাজারের মিলমালিকরা লবণ কিনলেও চট্টগ্রামসহ অন্য এলাকার মিলমালিকরা শ্রমিক সংকটে মিল চালাতে পারছেন না শুনেছি। লবণ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এখন থেকে লবণ আমদানিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

কক্সবাজার জেলা ও বাঁশখালী উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় লবণ চাষ হয়ে থাকে। বিসিকের তথ্য মতে এবার ৫৭ হাজার ৭২২ একর জমিতে লবণের চাষ হয়েছে।          আর এই লবণ চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে প্রশিক্ষিত ৩৪ হাজার চাষি। এর বাইরে আরো কয়েক হাজার শ্রমিক জড়িত রয়েছে। চাষিদের অভিযোগ গত কয়েক বছর যাবত্ দেশে উত্পাদিত লবণ নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে গুটিকয়েক লবণ ব্যবসায়ী। দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি লবণ উত্পাদিত হলেও বিভিন্নভাবে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করার পাঁয়তারা করে তারা। লবণ আমদানিতে লাভবান বেশি হওয়া যায়। ফলে দেশে উত্পাদিত লবণ ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। এখনো গত বছরে উত্পাদিত লবণ অবিক্রিত অবস্থায় রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ লবণচাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কায়সার ইদ্রিস ইত্তেফাককে বলেন, ‘দেশীয় লবণ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সোডিয়াম সালফেট ও সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি বন্ধ রাখতে হবে। কিছু অসাধু মিলমালিক নানা প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম সালফেট আমদানি করে দেশীয় বাজারে খাবার লবণ হিসেবে বিক্রি করছে। এসব বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা দাবি জানিয়েছি। করোনার কারণে লবণ চাষে শ্রমিক কমে গেছে। পর্যাপ্ত শ্রমিক মিলছে না। এতে মজুরি বেড়ে যাচ্ছে। যদি হঠাত্ বৃষ্টি হয় তাহলে প্রান্তিক চাষিদের তাদের কাছে রক্ষিত লবণ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে।’ বাংলাদেশ লবণ মিলমালিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল কবির ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিসিক লবণ উত্পাদনের সঠিক পরিসংখ্যান দিচ্ছে না। যার কারণে মিলমালিকরা দেশে মোট উত্পাদিত লবণ নিয়ে অন্ধকারে থাকেন। হয়তো কোনো অসাধু ব্যবসায়ীদের আমদানি সুবিধা প্রদানের জন্য বিসিকের কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকতে পারে। করোনার কারণে মিল চালানো যাচ্ছে না। কক্সবাজারে মিলের শ্রমিকরা অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের দাবিতে বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ রেখেছে। চট্টগ্রামে ৩৫/৪০টি মিলের মধ্যে মাত্র ১০/১২টি পালাক্রমে চালু রাখা হচ্ছে। শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশই বরিশাল এলাকার। তারা বাড়িতে চলে যাওয়ায় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জসহ অন্য এলাকার মিলগুলো লকডাউনের আওতায় পড়েছে। মিল চালানো যাচ্ছে না। ফলে চাষিদের কাছ থেকে লবণ কেনা কমে গেছে।’