প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। আশা করি, পরীক্ষা সামনে রেখে সবাই পড়াশোনায় নিবিড় মনোনিবেশ
করছো। আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রের ৪ অধ্যায়ের রক্ত ও সংবহন-বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করবো, যা ২০১৯ সালের অভিন্ন প্রশ্নপত্রের এইচ.এস.সি সকল বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন : ডাক্তার রক্তচাপ পরিমাপ করে, শফিক সাহেবকে বললেন, তিনি হাইপার টেনশনের রোগী। নিয়মিত ওষুধ সেবন ও লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করে সুস্থ থাকা যায়। তার রক্তচাপ ১৬০/১১০।
(ক) হার্টবিট কী? ১
(খ) করোনারী রক্ত সংবহন বলতে কী বুঝ? ২
(গ) শফিক সাহেবের কী ধরণের রক্তচাপ দেখা যায়-ব্যাখ্যা কর। ৩
(ঘ) শফিক সাহেবের হার্ট অ্যাটাক কিংবা কার্ডিয়াক অ্যারেষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও রক্তশূন্যতা সৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম-বিশ্লেষণ কর। ৪
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ঃ
(ক) হার্টবিট : হূদপিণ্ডের ছন্দময় সংকোচন ও প্রসারণকে একত্রে হূদস্পন্দন বা হার্টবিট বলে।
(খ) করোনারী রক্ত সংবহন ঃ যে প্রক্রিয়ায় হূদপিণ্ড থেকে রক্ত করোনারি ধমনীর মাধ্যমে হূদপেশিতে সরবরাহ হয় এবং হূদপেশি থেকে করোনারি সাইনাসের মধ্যে দিয়ে হূদপিণ্ডের ডান অলিন্দে ফিরে আসে তাকে করোনারি রক্তসংবহন বলে। এর মাধমে হূদপিণ্ডের দেয়ালের কোষসমূহে, পুষ্টি, খনিজ লবণ ইত্যাদির চাহিদা পূরণ হয় এবং বিপাকীয় বর্জ্য অপসারণ ঘটে।
(গ) উত্তর : উদ্দীপকে উল্লেখিত শফিক সাহেবের রক্তচাপ স্বাভাবিক নয়, অস্বাভাবিক। তার রক্তচাপ ১৬০/১১০ অর্থাত্ তার উচ্চ রক্তচাপ। এ কারণে ডাক্তার বলেছেন, সে হাইপার টেনশনের রোগী। হূদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের কারণে হূদপিণ্ড থেকে ধমনীর মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকালে ধমনী গাত্রে কোনো ব্যক্তির সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৫০ মি. মি বা তার বেশি হলে এবং ডায়াস্টোলিক চাপ সব সময় ৯৫ মি.মি বা তার বেশি থাকলে তাকে হাইপার টেনশনের রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। শরীর ও মনের স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তচাপ যদি বয়সের জন্য নির্ধারিত মাত্রার উপরে অবস্থান করে তবে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে। স্বাভাবিক ও সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মি.মি এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মি.মি হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে শফিক সাহেবের অনেক বেশি। তাই সে উচ্চ রক্তচাপ বা ডাক্তারী পরিভাষায় হাইপার টেনশনের রোগী।
(ঘ) উত্তর : উদ্দীপকে উল্লেখিত শফিক সাহেবের রক্তচাপ স্বাভাবিক নয়, অস্বাভাবিক। তার রক্তচাপ ১৬০/১১০ অর্থাত্ তার উচ্চ রক্তচাপ। এ কারণে ডাক্তার বলেছেন, সে হাইপার টেনশনের রোগী। উচ্চ রক্তচাপের ফলে তার শরীরে নানা ধরণের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন-
১. স্ট্রোক বা প্যারালাইসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি থাকতে পারে।
২. হার্ট বড় হয়ে যেতে পারে।
৩. হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক আরেষ্ট ও ফেইলিউর ঘটতে পারে।
৪. বৃক্কের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
৫. দৃষ্টি শক্তির ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
অপরদিকে, শরীরে রক্ত শূন্যতার সৃষ্টির কারণ হলো, দেহে লোহিত রক্তকনিকার পরিমাণ কমে যাওয়া। উচ্চ রক্তচাপের কারণে যেহেতু লোহিত রক্তকনিকার সংখ্যার কোন তারতম্য ঘটে না তাই বলাই যেতে পারে হাইপার টেনশনের রোগীর ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক কিংবা কার্ডিয়াক অ্যারেষ্টের যথেষ্ট ঝুঁকি থাকলেও রক্তশূন্যতা সৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।
